বাংলায় কথা বলার অপরাধে মহারাষ্ট্রের পুনেতে খুন হয়েছেন পুরুলিয়ার সুখেন মাহাত। প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে বাংলার শাসকদল। তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল সূত্রে খবর, শুক্রবার, মৃত পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি যাচ্ছেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Baneerjee)। পরিবারে সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। বেলা ১২টা নাগাদ সেখানে যাবেন তিনি।

মহারাষ্ট্র-সহ বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ আগেই উঠেছে। গত মাসেও মহারাষ্ট্রে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের এক শ্রমিককে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, বাংলা বলার অপরাধে পুরুলিয়ার (Purulia) বাসিন্দা সুখেনকে কুপিয়ে খুন করা হয়। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ করেছে তৃণমূল। দলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্যোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লেখেন, “এটি একটি ঘৃণামূলক অপরাধের চেয়ে কম নয়। একজন যুবককে তার ভাষা, পরিচয়, শিকড়ের জন্য নির্যাতন করা হল এবং হত্যা করা হল। পরিযায়ীদের প্রতি ঘৃণাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং নিরপরাধদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা। আমি অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এবং সুখেনের পরিবারের কাছে, আমি বলছি যে এই অকল্পনীয় শোকের মুহূর্তে বাংলা আপনার পাশে আছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সবরকম প্রচেষ্টাই করা হবে।”

বিজেপিকে নিশানা করে সাংবাদিক বৈঠক করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসু জানান, “বিজেপির স্লোগানের মূল কথা হচ্ছে ‘বাঁচাই মারতে, তাই বাঙালির মুন্ডু চাই’এটাই এখন তাদের রাজনীতির মূল ন্যারেটিভ।“ তৃণমূলের পক্ষে ইতিমধ্যেই বাঘমুণ্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো, শান্তিরাম মাহাতো, রাজীব লোচন সরেনরা গিয়ে সুখেন মাহাতোর শোকতপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন।

শুক্রবার, পুরুলিয়া গিয়ে মৃত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন অভিষেক (Abhishek Baneerjee)। নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে সেই খবর জানিয়ে অভিষেক লেখেন, “ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক ও বাঙালির উপর অত্যাচার মানব না আর, প্রতিহত করবই বাংলা-বিরোধীদের স্বৈরাচার”। এর আগে পুরুলিয়ায় সভা করতে গিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেছেন অভিষেক। শুধু তাই নয়, জঙ্গলমহলে কীভাবে সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপির জল্লাদ হয়েছেন- নাম ধরে তা জানিয়েছিলেন অভিষেক। এখনও একটি সন্তানহারা আদিবাসী পরিবারের পাশে দিয়ে দাঁড়াচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

–

–

–

–

–

–



