আমেরিকার সিয়াটলে পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় (Indian Student Death in Seattle) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল ভারতীয় ছাত্রী জাহ্নবী কাণ্ডুলার (২৩)। উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh) থেকে পড়াশুনা করতে আমেরিকায় গিয়েছিলেন জাহ্নবী। ঘটনার প্রায় তিন বছর পর আর্থিক সাহায্য হিসেবে ২.৯০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রা ২৬২ কোটি টাকা) দেবে আমেরিকার সিয়াটেল কর্তৃপক্ষ।

২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে সিয়াটেলের রাস্তা পার হচ্ছিলেন জাহ্নবী। যেখানে জাহ্নবীকে গাড়িটি ধাক্কা মারে সে সময় গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭৪ মাইল (১১৯ কিমি), যেখানে নির্ধারিত সীমা ছিল ২৫ মাইল (৪০ কিমি)। পরে অবশ্য পুলিশ জানিয়েছিল, পুলিশ অফিসার কেভিন ডেভ একটি মাদক-অতিরিক্ত সেবনের খবর পেয়ে অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ই ঘটে দুর্ঘটনাটি। আরও পড়ুন: স্কুটার নাকি প্রেমিকা! ক্রেনে সওয়ারি সমেত শূন্যে স্কুটার ঝোলালো পুনের ট্রাফিক পুলিশ

পুলিশের গাড়ি থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন জাহ্নবী। দুর্ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে সিয়াটেল পুলিশ ‘লঘু’ করে দেখানোর চেষ্টা করেছিল। বলা হয়েছিল, পুলিশের গাড়ি ৫০ কিমি গতিতেই চলছিল। ছাত্রীর দোষেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দোষ চাপানোর চেষ্টা করে আমেরিকা। এর প্রতিবাদে সে সময় সরব হয়েছিল আমেরিকায় থাকা ভারতীয় কমিউনিটি ও ভারত সরকার।

ঘটনার পর প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষত আর এক পুলিশ অফিসারের বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং সামনে আসার পর। সেখানে ওই অফিসারকে হাসতে শোনা যায় এবং তিনি জাহ্নবীর জীবনের “সীমিত মূল্য” নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে শহর কর্তৃপক্ষকে “চেক লিখে দেওয়ার” পরামর্শ দেন। পরে অবশ্য ওই অফিসার ড্যানিয়েল অডেরারকে বরখাস্ত করা হয়। গত শুক্রবার কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে সমঝোতার নোটিস দাখিল করা হয়েছে। তাতে জাহ্নবীর পরিবারকে ২৬২ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে। কেভিন ডেভকে বরখাস্ত করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

–

–

–

–

–

–


