বেকারত্ব থেকে রেল সুরক্ষা, কৃষক আত্মহত্যা থেকে টাকার মূল্যহ্রাস— জনস্বার্থ জড়িত এমন ৯টি জ্বলন্ত ইস্যুতে কেন নীরব কেন্দ্রীয় বাজেট? বৃহস্পতিবার সংসদের উচ্চকক্ষে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্ন তুলেই মোদি সরকারকে তুলোধনা করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি দাবি করেন, এবারের বাজেটে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে প্রান্তিক মানুষ— প্রত্যেককেই সুকৌশলে বঞ্চিত করা হয়েছে। ১০ মিনিটের ঝাঁজালো বক্তৃতায় তিনি সাফ জানান, এই বঞ্চনার জবাব বিজেপি আগামী দু’মাসের মধ্যেই বাংলা থেকে পেয়ে যাবে।

রাজ্যসভায় ডেরেক এ দিন তথ্য দিয়ে দেখান, দেশের ৫ জন মধ্যবিত্তের মধ্যে ৪ জনই দৈনিক ১৭১ টাকার কম রোজগার করেন। অথচ তাঁদের স্বার্থরক্ষায় বাজেটে কোনও দিশা নেই। বেকারত্ব দূরীকরণ বা কর্মসংস্থানে কেন্দ্রের ‘পিএম ইন্টার্নশিপ’ প্রকল্পের ব্যর্থতার ছবিও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর কটাক্ষ, জনধন অ্যাকাউন্টের নামেও চলছে প্রহসন। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি চারটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে একটি কাজ করে না এবং ১০টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৪টিই শূন্য।

১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে সরব হয়ে ডেরেক প্রশ্ন করেন, “দেশে যেখানে অর্ধেক গ্রামবাসীর ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই, সেখানে অ্যাপ বা অনলাইনে শ্রমিকরা নথিপত্র আপলোড করবেন কীভাবে?” মোদি জমানায় রেল সুরক্ষা এবং যাত্রীপরিষেবার বেহাল দশা নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, গত ১১ বছরে রেল বাজেট বেড়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। বাংলার প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া আটকে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ধ্বংস করার অভিযোগ এনে ডেরেক জানান, বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিকে আর্থিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিজেপি। কৃষকদের অধিকার নিয়ে সরব হয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৬ দিনের অনশনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘কালা’ কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই তৃণমূল সোচ্চার ছিল। ডেরেকের একের পর এক যুক্তি ও আক্রমণের মুখে এ দিন শাসক শিবিরের সাংসদদের কার্যত নীরব থাকতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন- আইপিএলের আগে আদালতের নির্দেশে ধোনির বাড়ল খরচ, বিরাট স্বস্তি আরসিবির

_

_
_

_
_

_

