রাজনীতির ময়দানে আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক হলেও, সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যে কোনও রঙ নেই, রবিবার ছুটির দুপুরে তার এক অনন্য ছবি ধরা পড়ল উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। বিরোধীদের কুৎসা আর কটাক্ষের জবাব দিয়ে রাজ্য জুড়ে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার হিড়িক পড়েছে প্রথম দিনেই। কিন্তু শিলিগুড়ির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে যা ঘটল, তা কার্যত নজিরবিহীন। প্রকল্পের ফর্ম নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর অরুণ সরকারকে।

এদিন সকালে বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার। ভিড়ের মধ্যে প্রবীণ বিজেপি নেতাকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজেই এগিয়ে যান তিনি। দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রাক্তন কাউন্সিলর অরুণ সরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম এনে তাঁর হাতে তুলে দেন ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার। যুযুধান দুই শিবিরের এই সৌজন্যের ছবি দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষও কিছুটা অবাক হন।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রবীণ বিজেপি নেতা অরুণ সরকার রাজ্যের এই নতুন প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন। আমার বাড়িতে বেশ কিছু শিক্ষিত যুবক রয়েছে, তাদের জন্যই আজ ফর্ম নিতে এসেছি। শাসক দলের এই উদ্যোগে আমি খুশি। দল-মত নির্বিশেষে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। এমনকি তিনি এও স্বীকার করেন যে, তাঁর পরিবারের সদস্যরা লক্ষীর ভাণ্ডার এবং বার্ধক্য ভাতার সুবিধাও পাচ্ছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর মন্তব্য, বিজেপি যেভাবে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলছে, তার প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবার জন্য কাজ করেন। এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের বাছ-বিচার নেই। আমি নিজে এদিন বিজেপির বেশ কিছু নেতা-কর্মীর ফর্ম পূরণ করে দিয়েছি। মানুষের এই ভিড়ই প্রমাণ করছে যে দিদির প্রতি তাঁদের কতটা আস্থা রয়েছে। প্রথম দিনেই যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের যে রেকর্ড তৈরি হল, তার সঙ্গে শিলিগুড়ির এই সৌজন্যের বাতাবরণ রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন- স্বপ্নপূরণের পথে কাঁটা পাসপোর্ট জট! কাঁথির অঙ্কিতার মুশকিল আসান অভিষেক

_

_
_

_
_

_


