Monday, March 9, 2026

বেছে বেছে বাংলার জন্যই নতুন নিয়ম: সরকারি বাড়ির নথিতেও গ্রাহ্য নয় ভোটাধিকার!

Date:

Share post:

এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়া সমাপ্ত। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তকমা মুছতে সাধারণ ভোটাররা যে নথি জমা দেওয়ার তা দিয়ে ফেলেছেন। সোমবারের মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম ৭ নিয়ে যাবতীয় কাজ শেষ করার নির্দেশও দিয়ে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এখন নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হল, সরকারের দেওয়া কোনও ধরনের আবাস যোজনার (housing scheme) নথি ভোটারের প্রামাণ্য হিসাবে গৃহিত হবে না। সেখানেই বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্ন, সাংবিধানিক সংস্থা (constitutional body) হয়েও নির্বাচন কমিশন কীভাবে সরকারের অর্থে দেওয়া যোজনার নথিকে অস্বীকার করে? বাস্তবে এটা বেছে বেছে বাংলার ভোটারদের (voter) নাম দেওয়ার আরও একটি চক্রান্ত।

দিল্লির নির্বাচন কমিশন যে সূচি তৈরি করেছিল, তাতে এতদিনে বাংলার ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার দিন পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি (logical discrepancy) বলে যে নতুন খেলা বাংলার ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য খেলতে গিয়েছিল নির্বাচন কমিশন ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar, CEC), তা বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে আটকে গিয়েছে। এসআইআর শুনানি (SIR hearing) পর্যন্ত প্রায় ৬৪ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা (voter list) থেকে অযোগ্য বলে বাদ দেওয়ার দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি রয়েছে ফর্ম ৭ (Form 7) দিয়ে যে বিপুল পরিমাণ নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, তার যাচাই।

সেই যাচাই (scrutiny) প্রক্রিয়া শুরু হতেই এবার নতুন নির্দেশিকা দিল্লির কমিশনের। জানানো হল – প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ইন্দিরা আবাস যোজনা, বাংলার বাড়ি ইত্যাদি প্রকল্পে (government scheme) সরকারি ঘর বা জমি পাওয়ার নথি যদি ভোটার (voter) জমা দেন ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য, তা গৃহিত হবে না। সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে, ইতিমধ্যেই যাঁরা এই নথি দিয়ে ভোটাধিকার প্রমাণের চেষ্টা করেছেন, তাঁরা কীভাবে জানতে পারবেন এটা তাঁদের উপর নতুন করে চাপিয়ে দেওয়া শর্ত? আর তাহলে নতুন নথি জমা দেওয়ার সুযোগই বা পাবেন কীভাবে তাঁরা?

আরও পড়ুন : আরও দ্রুত কাজ: কর্তব্যে গাফিলতিতে রাজ্যের সাত আধিকারিককে সাসপেনশন কমিশনের!

সেখানেই নির্বাচন কমিশনের দ্বিচারিতাকে প্রশ্ন করা হয় বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ, যা বিজেপির ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশনের (One Nation One Election) নীতি নিয়ে চললেও আদতে বি-টিম দিয়ে বাংলার জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করে। যেখানে সাংবিধানিক সংস্থা হিসাবে কমিশনের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকারকে রক্ষা করা, সেখানে তারা একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। আদতে এটি নির্বাচন কমিশন নয়, নির্বাচন অমিশন (Election Ommission)।

spot_img

Related articles

নতুন সদস্য আসছে পরিবারে? বিশ্বকাপ জিতে আবেগে ভেসে সূর্য ফিরলেন অতীতের স্মৃতিতে

বিশ্বকাপ (World Cup) জয়ের উচ্ছ্বসের মধ্যেই নতুন সদস্যের আগমন হচ্ছে সূর্যকুমার যাদবের(Suraykumar yadav)  পরিবারে! বিশ্বকাপ জেতার পরই সমাজমাধ্যমে...

আবার ঘূর্ণাবর্ত: ভিজবে বাংলা, উত্তর থেকে দক্ষিণে কুয়াশার সতর্কতা

শনিবার থেকেই বৃষ্টি ভেজা বাংলা। তবে বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া প্রবল ঘূর্ণাবর্তের জেরে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি (rain) বাড়ার...

ইরানের তিন জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে আশ্রয়! রাজ্যসভায় কী জানালেন জয়শঙ্কর

আমেরিকা-ইজরায়েল হামলায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Iran-Isreal war) পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। এই মত অবস্থায় ইরানের তিন...

রেকর্ড করল টাকা, নামল সেনসেক্স: সপ্তাহের শুরুতে জোর ধাক্কা শেয়ার বাজারে

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে একদিকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের নাভিশ্বাস উঠছে আর একদিকে সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়ে পড়েছে টাকার (Rupee)...