বকেয়া টাকা না দেওয়া থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি! কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় সভা করল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার খড়্গপুর ২ নম্বর ব্লকের চাঙ্গুয়াল অঞ্চলে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি। এদিনের বিপুল জনসভায় মা-বোনেদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।


মিছিল শেষে চাঙ্গুয়ালে আয়োজিত এক পথসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ। ভোটার তালিকায় নথি যাচাই বা এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বিজেপি সরকার মানুষকে মারার লাইন তৈরি করছে। নোটবন্দির সময় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, আর এখন এসআইআর-এর নামে বাবা-ছেলের পদবির বানান নিয়ে ভোটারদের লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি অসুস্থ বৃদ্ধদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে আসতে হচ্ছে।’ এর বিপরীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত যুবসাথী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের লাইনের তুলনা টেনে তাঁর দাবি, ‘এই লাইন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ও উন্নয়নের লাইন। বিজেপি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে মানুষের টাকা বন্ধ করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা সবুজ সাথীর মতো পরিষেবা কাউকে দিতে অস্বীকার করেনি।


পাশাপাশি নাম না করে প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডোর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘বাংলার নামে কুৎসা করে এসেছেন এতদিন। আজকে বিজেপিতে যোগদান করলেও এঁরা বাংলাবিরোধী।’’ নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করা নিয়ে ওঁর মন্তব্য, ‘‘বিজেপিকে হারাতে গেলে সবাইকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে থাকতে হবে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা যতবার পশ্চিমবাংলায় আসবেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট ব্যাঙ্ক তত বাড়বে। শুধু ভোটের সময় বাংলায় এলেই মানুষের মন পাওয়া যায় না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে উন্নয়ন করছেন তাতে তৃণমূলের পক্ষেই বাংলার মানুষ রায় দেবেন।’’

এ দিন কুণাল ঘোষ আরও অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্র রাজ্য থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়ে গেলেও ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া আটকে রেখেছে। বিজেপি বাংলা ও বাঙালির মনীষীদের অপমান করছে বলেও তোপ দাগেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘যাঁরা বাংলাকে বদনাম করছে, তাঁদের কি বাংলার মানুষ ভোট দেবেন?’ অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী চতুর্থবারের জন্য ২৫০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবেন বলে দাবি করেন কুণাল। তাঁর কটাক্ষ, ‘বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আসনটুকুও বিজেপি এবার পাবে না।’

বিজেপি ছাড়াও সিপিএমকে নিশানা করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কুণাল বলেন, সিপিএম আমলের ঘটনাকে সিনেমার ছবির মাধ্যমে এখনকার হিংসা বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।


এ দিনের মিছিলে উপস্থিত ছিলেন খড়্গপুর ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি দেবরাজ দত্ত, আইএনটিটিইউসি নেতা সনাতন বেরা, যুব নেতা বাপী ভক্তা প্রমুখ। প্রশাসনের একাংশের নজরদারিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ‘চক্রান্ত’ রুখতে এবং রাজ্য বাজেটে বিভিন্ন প্রকল্পের ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে ধন্যবাদ জানাতেই এ দিনের এই জনসভা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

আরও পড়ুন – পথ নিরাপত্তায় ‘মাস্টারপ্ল্যান’, দুর্ঘটনা রুখতে এবার ‘স্পট ডেভেলপমেন্ট’ কলকাতা পুলিশের

_

_

_
_
_

