মন্ত্রিসভার বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলে সিলমোহর দিল নবান্ন। পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (এগজিকিউটিভ) আধিকারিকদের পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নিয়মে আমূল সংশোধন এনে বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। নতুন এই নির্দেশিকার ফলে মহকুমা শাসক বা এসডিও পদে নিয়োগের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হল তরুণ আমলাদের জন্য।

রাজ্য কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল এই সংশোধনীতে সম্মতি দিয়েছেন। মূলত ২০২১ সালের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (এগজিকিউটিভ) অফিসার্স (পে) রুলস’-এ এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে কোনও ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক যদি টানা পাঁচ বছর সন্তোষজনক ভাবে কাজ করেন, তবেই তিনি মহকুমা শাসক বা সমগোত্রীয় পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।

উল্লেখ্য, এই পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যে আধিকারিকদের প্রবেশন পর্ব বা শিক্ষানবিশ কাল এবং বিডিও হিসেবে কাজের সময়সীমাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগে এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার মাপকাঠি নিয়ে যে জটিলতা ছিল, নতুন নিয়মে তা অনেকটাই স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে এও সাফ জানানো হয়েছে যে, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়া মানেই পদোন্নতি বাধ্যতামূলক নয়। প্রশাসনের কাজের প্রয়োজন এবং শূন্যপদের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলা স্তরের প্রশাসনে আরও গতি আসবে। বিডিও হিসেবে সফলভাবে কাজ করার পরেই যোগ্য আধিকারিকরা দ্রুত মহকুমা সামলানোর দায়িত্ব পেতে পারেন। এর ফলে যেমন প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞতার সঠিক প্রয়োগ হবে, তেমনই সিভিল সার্ভিস আধিকারিকদের মনোবলও বৃদ্ধি পাবে। বুধবার অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকেই নবান্নের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

আরও পড়ুন- অভিষেকের অভিযোগে ঘুম ভাঙল কমিশনের! ব্যাখ্যা তলব মুরুগনের

_

_

_

_

_
_

