বিদেশ সফরে গিয়ে চরম লজ্জার মুখে পড়ল পাকিস্তানের ( Pakistan) জাতীয় হকি দল (Hockey Team)। অস্ট্রেলিয়ায় (Australia) এফআইএইচ প্রো লিগ খেলতে গিয়ে আর্থিক অব্যবস্থাপনার জেরে হোটেল (Hotel) না পেয়ে রাস্তায় ঘুরতে হয়েছে খেলোয়াড়দের (Player)। শুধু তাই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলে থাকতে গিয়ে বাসনও মাজাতে হয়েছে তাঁদের। এই বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছেন খোদ দলের অধিনায়ক ইমাদ বাট (Captain Imad Butt)। ঘটনাটি সামনে আসতেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Prime Minister Shahbaz Sharif)।

পাকিস্তান দল অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা (canberra) সফরে গিয়েছিল এফআইএইচ প্রো লিগ (FIH Pro League)- এর দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ খেলতে। মাঠে ম্যাচ হারার থেকেও বড় ধাক্কা আসে মাঠের বাইরে। অভিযোগ, পাকিস্তান হকি ফেডারেশন নির্ধারিত সময়ে হোটেলের টাকা মেটাতে না পারায় বুকিং বাতিল হয়ে যায়।

ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছনোর পর ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় খেলোয়াড়দের। ইমাদ বাট জানান, সিডনিতে নামার পর অপেরা স্ট্রিটের আশপাশে প্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা লাগেজ হাতে নিয়ে অসহায়ের মতো ঘুরে বেড়াতে হয় তাঁদের। হোটেল ছিল না, সময়মতো খাবারও জোটেনি। এমনকী যে হোটেলে পরে অস্থায়ী ভাবে আশ্রয় মেলে, সেখানে তাঁদের রান্নাঘর পরিষ্কার করা ও বাসন মাজতেও হয়েছে বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইমাদ বাট বলেন, “পাকিস্তানে যে খবর পৌঁছেছে, তা সম্পূর্ণ সত্য। দলের পাঠানো ভিডিওগুলিও সত্য। সেই ভিডিও ভারতে পৌঁছেছে বলে আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছিল। তবে এটা আমাদের দেশের বিষয়। দেশের মানহানি করা উচিত নয়। তাই আমি একটি ভিডিও তৈরি করে বলেছিলাম যে, সবকিছু ঠিক আছে এবং দলের সঙ্গে কোনও অবিচার হচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবে, এটি সত্য ছিল না। যে খবর বা ভিডিও উঠে এসেছে, সব কিছু সত্য ছিল।”

জানা গিয়েছে, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ক্যানবেরায় হোটেল বুক করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সব টাকা মিটিয়ে দেবে হকি ফেডারেশন। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে দেখা যায়, সেই হোটেলে কোনও বুকিংই নেই। কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পাকিস্তানি বাসিন্দারাই এগিয়ে এসে খেলোয়াড়দের সাময়িক ভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।

পরে হোটেল মিললেও সমস্যা কাটেনি। পর্যাপ্ত ঘর না থাকায় একটি ঘরে দুই থেকে তিন জন করে খেলোয়াড়দের থাকতে হয়। সেখান থেকেই পরদিন সরাসরি মাঠে নামতে হয় দলকে। এই মানসিক ও শারীরিক ধকলের প্রভাব যে খেলায় পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

বিদেশের মাটিতে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে পাকিস্তান হকি ব্যবস্থাপনা। এখন দেখার, তদন্তের পর কী পদক্ষেপ নেয় পাক সরকার ও হকি ফেডারেশন।

–

–

–
–
–


