দীর্ঘ ২৭ বছর পর ফের বসছে জাতীয় গোলটেবিল বৈঠক। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে এই দিনভর সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। শেষবার ১৯৯৯ সালে এই পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এই আয়োজনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। এ ছাড়াও বৈঠকে যোগ দেবেন সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজ্য নির্বাচন কমিশনাররা। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ আইনি ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে এই মেগা বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকেরাও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়া ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ও রাজ্য স্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করা। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কীভাবে আরও নিশ্ছিদ্র ও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়েই হবে মূল আলোচনা। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রযুক্তি বিনিময়, ইভিএম-এর আধুনিকীকরণ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পাবে সদ্য চালু হওয়া ‘ইসিনেট’ নামক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি। এই প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা ও প্রয়োগ নিয়ে সম্মেলনে বিশেষ উপস্থাপনা দেওয়া হবে।

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আলোকে বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা প্রস্তুতির যোগ্যতা সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৭৩তম ও ৭৪তম সংশোধনীর ভিত্তিতে গঠিত রাজ্য নির্বাচন কমিশনগুলির ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার ও লজিস্টিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই বৈঠক থেকে নতুন কী দিশা উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন- AI মঞ্চে কংগ্রেসের জামা খুলে প্রতিবাদ: পাশে দাঁড়ালো না জোট শরিকরা

_

_

_

_

_
_


