উত্তরপ্রদেশ, তারপরে কেরালা। শৈশব থেকে কৈশোরে স্মার্টফোন ও তাতে যথেচ্ছ কন্টেন্ট পেয়ে যাওয়ার কুফল দেখার পরেও শিক্ষা হয়নি গোটা দেশের। স্কুল পড়ুয়াদের হাতে যথেচ্ছ স্মার্টফোন ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কের সহজপ্রাপ্যতা নিয়ে গোটা বিশ্বে শুরু হয়েছে বড় পদক্ষেপ। খোদ ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron) ভারতে কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যানের পরামর্শ দিয়েছেন। কেন্দ্রের সরকার তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবের পথেই যায়নি। সেই পরিস্থিতিতে এবার সেই পথে ভারতের কর্ণাটক (Karnataka)। দেশের প্রথম রাজ্য হিসাবে অনুর্ধ্ব ১৬ (under-16) বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যানের (social media ban) পথে হাঁটতে চলেছে।

কচিকাঁচাদের হাতের মুঠো থেকে স্মার্টফোন (smartphone) আর সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা কেড়ে নিতে এক বড়সড় অপারেশন শুরু করতে চলেছে কর্ণাটক সরকার। ১৬ বছরের নিচে মোবাইল ব্যবহারে পাকাপাকি নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে আইটি হাব হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে। শনিবার কর্ণাটক রাজ্য উচ্চশিক্ষা কাউন্সিলে উপাচার্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah)।

সাম্প্রতিক এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে (AI Impact Summit) আমন্ত্রিত ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করে দেওয়া উচিত। সম্প্রতি ফ্রান্সের (France) মন্ত্রিসভাতেও এই প্রস্তাব পেশ হয়েছে, যা পাশ হওয়া সময়ের অপেক্ষা। পথ দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যদিও সেই এআই সামিটেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী আবার পাল্টা বলেছেন, ভারতের সব স্কুল পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছে যাবে এআই। পিঠ বাঁচাতে আবার দাবি করেছেন, স্কুল পড়ুয়াদের এআই-এর নিয়ন্ত্রণের রাশ থাকবে অভিভাবকদের হাতে। আদতে ভারত সরকার যে কোনওভাবেই স্কুল পড়ুয়াদের ডিজিটাল কন্টেন্টে নিয়ন্ত্রণের পথে যাবে না, তা মোদির কথাতেই স্পষ্ট।

এই পরিস্থিতিতে নিজের রাজ্যের স্কুল পড়ুয়া ও কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে চলেছে কর্ণাটক (Karnataka)। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার (Siddaramaiah) মতে, ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের পড়াশোনার দফারফা করে দিচ্ছে । এই ‘ডিজিটাল আসক্তি’ আগামীর প্রজন্মের স্বভাব, মানসিক ও চারিত্রিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন । তাই উপাচার্যদের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা সম্ভব কিনা।

আরও পড়ুন : বিয়ে নিয়ে অশান্তি, তরুণীকে নারকীয় অত্যাচার লিভ ইন পার্টনারের

বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে, অনেক অভিজাত স্কুলে মোবাইলেই হোমওয়ার্ক দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা। তাঁরা যাতে প্রযুক্তির চাপে পড়ে বিপথে না যায়, সেটাই সরকারের অগ্রাধিকার। কর্ণাটকে বিষয়টি কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গত বিধানসভা অধিবেশনেই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে জানিয়েছিলেন, নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার সক্রিয়ভাবে ভাবনাচিন্তা করছে। বেশিরভাগ শিক্ষাবিদই এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শৈশবকে ‘ডিজিটাল ভাইরাস’ থেকে বাঁচাতে এর চেয়ে ভালো উপায় আর নেই।

–

–

–

–
