Wednesday, April 8, 2026

হস্টেলের বন্ধ ঘরে পচাগলা দেহ! KJNM-এ ডাক্তারি পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুতে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন

Date:

Share post:

কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল কলেজ হাসপাতালে (Kalyani JNM Hospital) ডাক্তারি পড়ুয়ার পচগলা দেহ উদ্ধারে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হস্টেলের বন্ধ ঘর থেকে ফাইনাল সেমিস্টারের ছাত্র পুলক হালদার দেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে হস্টেলের একটি ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। পাশের ঘরের পড়ুয়ারা বিষয়টি টের পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলক হালদারের বাড়ি ডায়মন্ড হারবারে। তিনি KJNM-এ ফাইনাল সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন। সহপাঠীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাঁকে ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছিল না। এদিন তীব্র দুর্গন্ধ বেরোনোয় কর্তৃপক্ষকে জানান অন্যান্য পড়ুয়ারা। অনেকক্ষণ ডাকায় সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভাঙা হয়। ঘরে ঢুকেই দেখা যায়, খাটের উপর পড়ে রয়েছেন পুলক। শরীরে ইতিমধ্যেই পচন ধরেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও ঠিক কত দিন ধরে দেহটি ঘরের ভিতরে পড়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

খবর পেয়ে কলেজ (College) কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং সঙ্গে সঙ্গে কল্যাণী থানায় যোগাযোগ করা হয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত শুরু হতেই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পুলক এই মানসিক চাপ থেকেই এমন চরম পথ বেছে নিলেন কি না অথবা এর পিছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ ইতিমধ্য়েই পুলকের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেছে।

প্রশ্ন উঠছে, হোস্টেলে উপস্থিতি, নিরাপত্তা ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা থাকার কথা। যদি কোনও ছাত্র দীর্ঘদিন দেখা না যায়, ক্লাসে উপস্থিত না থাকে বা ঘর বন্ধ থাকে—তাহলে তা দ্রুত নজরে আসার কথা। কিন্তু এখানে তা ঘটল না কেন? হোস্টেল সুপার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছিলেন?

পাশাপাশি হস্টেলে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু একজন ছাত্র এতদিন বেপাত্তা, কেউ তাঁর খোঁজ নিল না! ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও স্বচ্ছতার দাবি উঠছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু ফরেনসিক টিম আসার আগেই দেহ সরানো হল- এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশ্ন উঠছে—এটি কি শুধুই আত্মহত্যা বা অসুস্থতার কারণে মৃত্যু, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও জটিল পরিস্থিতি বা চাপ কাজ করেছে? এই ঘটনার জেরে হাসপাতাল ও কলেজ চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Related articles

বদমেজাজি জ্ঞানেশ! বৈঠকে বাদানুবাদ, ‘অপমান’ পর্যবেক্ষককে

জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারি আধিকারিকদের প্রতি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ কতটা খারাপ তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন...

ভোটার তালিকা ফ্রিজ কেন, ভোট দিতে না পারলে ট্রাইবুনাল কীসের? প্রশ্ন তুলে সরব মমতা

ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়ার আগেই কেন ভোটার তালিকা 'ফ্রিজ'? বুধবার, শ্রীরামপুরের নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সিদ্ধান্ত...

ভুলের খেসারত! চাপে পড়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গান বাঁধবেন বাদশা

নিজের নতুন গান 'টাটিরি' (Tatiri Song Controversy) ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই বাদশার (Badshah)। গানের কথা ও দৃশ্যায়নে নারীদের...

সভামঞ্চ লাগোয়া জায়গায় বৈদ্যুতিক স্পার্ক! ক্ষুব্ধ মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরে সভামঞ্চ লাগোয়া জায়গায় আগুন আতঙ্ক। দর্শকাসনে আগুনের ফুলকি (spark) দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন...