এসআইআর বা ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট’ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আতঙ্কে রাজ্যে যে মৃত্যু ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, এবার সেই সমস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। মৃত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌরহিত্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত ৬১ জনের একটি তালিকা অনুমোদিত হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, তালিকায় থাকা ৬১ জনের মধ্যে ৫৬ জনই এমন পরিবারের সদস্য, যাঁরা এসআইআর আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি ৫টি নাম এমন পরিবারের, যাঁরা চরম হয়রানি বা নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার শিকার হয়েছেন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ৬১ জনকেই রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড পদে নিয়োগ করা হবে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

রাজ্যের মোট ১৪টি জেলা থেকে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে পুরুলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, বীরভূম, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, মালদা এবং নদীয়া। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসারও রয়েছেন। যাঁরা কাজের চাপ বা প্রক্রিয়াগত আতঙ্ক সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেই পরিবারগুলিকে, যেখানে মৃত ব্যক্তি অল্পবয়সী ছিলেন কিংবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। ইতিপূর্বেই এই পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য। এবার মন্ত্রিসভার সিলমোহরের ফলে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাঁদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে হাঁটল সরকার। নবান্নের এক পদস্থ কর্তার কথায়, মানবিক দিক বিবেচনা করেই দ্রুত এই নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন- দাপুটে জয় প্রোটিয়াদের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারে সহজ ভারতের সমীকরণ

_

_

_

_

_
_


