কেন্দ্রের বরাদ্দকে তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গোটা দেশে বাংলাই একমাত্র সাবলম্বী হওয়ার পথ দেখিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন না হলে যে কোনও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাও বাংলার থেকেই কেন্দ্রের সরকারকেই শিখতে হবে। যেখানে কেন্দ্রীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ক্রমশ কমছে, সেখানে বাংলায় নতুন করে স্কুল শিক্ষা ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র উন্নয়নে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটির নতুন প্রকল্প নেওয়া হল। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের (cabinet meeting) পরে ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ও অর্থ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya)।

রাজ্যের বেশ কয়েকটি প্রান্তে একাধিক সরকারি স্কুলে পরিকাঠামো এখন তাক লাগিয়ে দেয় যে কোনও বেসরকারি স্কুলকে। স্কুলের পাঠ্যবই ও সিলেবাসকে আকর্ষণীয় করার পাশাপাশি সামগ্রিক স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে রাজ্য সরকার স্কুলছুটের পরিমাণ কমিয়ে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের ফলাফলের মানোন্নয়নের পথ দেখিয়েছে। যার ফল সর্বভারতীয় জয়েন্ট থেকে একাধিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে। সেখানে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদেরই সাফল্য নজির তৈরি করেছে।

সেই লক্ষ্যে এবার রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প – স্কুল শিক্ষার সম্প্রসারণ (Enhancing School Education)। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (ADB) সহযোগিতায় স্কুল শিক্ষা ক্ষেত্রে আড়াই হাজার কোটি টাকায় এই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) জানান, পাঁচ বছরে ৪৩০টি মডেল স্কুল (model school) গড়ে তোলা হবে। তার মধ্যে প্রতিটি ব্লকে একটি করে এবং ৮৭টি অনগ্রসর ব্লকে দুটি করে স্কুল তৈরি হবে। এই স্কুলগুলি হবে মডেল স্কুল। সব স্কুলে বাংলা ও ইংরেজি দুই মাধ্যমেই পড়াশোনার সুযোগ থাকবে। মনিটরিং ও মূল্যায়নের পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষার মানোন্নয়ন হয়েছে। এই ৪৩০ মডেল স্কুলগুলিতে (model school) থাকবে স্মার্ট ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি, ডিজিটাল পরিকাঠামো, লাইব্রেরি, স্পোর্টসের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ পড়ার সুবিধা থাকবে, জানান ব্রাত্য বসু। এর জন্য যে আড়াই হাজার কোটির প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে তার ৭০ শতাংশ দেবে এডিবি (ADB) ও ৩০ শতাংশ রাজ্যের।

স্কুল শিক্ষার পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের (ICDS centre) পরিকাঠামো উন্নয়নেও ২,১৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে জানান, এক্ষেত্রেও এডিবি ৭০ শতাংশ ও রাজ্য সরকার ৩০ শতাংশ হিসাবে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের তহবিল থেকে ৬৪৪.৪ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ বছরের মধ্যে ৫০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়ন হবে এই প্রকল্পে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে শুরু হবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিশুদের উন্নত মানের শিক্ষাসামগ্রী ও পুষ্টি, এবং কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন : মার্চের মধ্যেই নিয়োগ! এসআইআর আতঙ্কে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যের চাকরির সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার

যেভাবে কেন্দ্রের সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে উদাসীনতার পরিচয় দেখিয়েছে রাজ্যের পদক্ষেপ যে ঠিক তার উল্টো পথে, তাও এদিন রাজ্যের দুই মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন। এপ্রিল মাস থেকে রাজ্য সরকারি স্কুলগুলিতে পরীক্ষা শুরু হলেও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী (central force) মোতায়েন থাকবে রাজ্যে। তাদের জন্য ব্যাপক সংখ্যায় স্কুলে যে পঠনপাঠন বন্ধ রাখতে হবে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আইসিডিএস হলেও এই রাজ্যে নামেই তাতে মেলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ। ফলে রাজ্য সরকার যেভাবে নিজের প্রচেষ্টায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়ন করে চলেছে, তা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।



