Wednesday, April 29, 2026

আবার প্রমাণিত গ্রেফতারি রাজনৈতিক অস্ত্র, কেজরির বেকসুর খালাসে বিজেপিকে তোপ তৃণমূলের

Date:

Share post:

নির্বাচনের আগে একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বিরোধী রাজ্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বরাবর বিজেপির মোদি সরকার জমানায় চলে আসছে, তার বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুক্রবার আদালত থেকে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) ও প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার (Manish Sisodia) বেকসুর খালাস হওয়ার ঘটনায় তা আবারও প্রমাণিত হল। তবে যেভাবে রাজনৈতিক ফায়দায় এই গ্রেফতারিকে ব্যবহার করে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার, তা নিয়ে ফের সরব বাংলার শাসকদল। এই মিথ্যে মামলার মতই মোদি-শাহর সরকারেরও পতন হবে, দাবি তৃণমূলের।

দিল্লিতে বিজেপির ক্ষমতা দখলের ঠিক আগেই দীর্ঘদিন হাজতবাস প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ (AAP) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার জেলে থাকার সময়কালটা আরও বেশি। শুক্রবার সেই দিল্লির রাউস অ্যাভেনিউ আদালতেই বেকসুর খালাস দুজনে, যেখানে প্রায় দেড় বছর ধরে জামিন চেয়েও পাননি তাঁরা। শুক্রবারের আদালতের রায় কার্যত বেআব্রু করে দিল বিজেপি সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতিকে।

সেখানেই বিজেপির চক্রান্ত ফাঁস করে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, তাহলে এতদিন তাঁদের আটকে রাখা হল কেন? কলঙ্কিত করা হল। মামলায় তাঁরা নির্দোষ হয়ে খালাস পেলেন। ততদিনে বিজেপি তাঁদের রাজনৈতিক ফায়দাটা তুলে নিয়ে গেল। সরকারটা দিল্লিতে বিজেপি করে নিল। কেউ গ্রেফতার হওয়া মানেই সে অপরাধী ভাববেন না। যেভাবে আজকাল গ্রেফতারিটা রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে, তা আবার প্রমাণিত অরবিন্দ কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) ঘটনায়।

কীভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে সাহায্য করে, কুণাল ঘোষ এদিন তার ব্যাখ্যায় জানান, দেশের মানুষ চোখের উপর দেখতে পাবে। গুচ্ছের কঠিন বড় বড় অপরাধ কেস ডায়েরিতে লিখে দিয়ে কাউকে আটকে রেখে দেবে। এমন অনেক ধারা আছে যাতে সহজে জামিন (non-bailable) হবে না। তাহলে ধারণা তৈরি হবে – এতদিন আটকে রেখেছে, তার মানে কিছু করেছে। আর ট্রায়াল শেষে দেখা যাবে তিনি অপরাধমুক্ত। আর ততদিনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা লাভ নিয়ে চলে গিয়েছে। কে এই ক্ষতিপূরণ দেবে?

আরও পড়ুন : বেকসুর খালাস কেজরিওয়াল-সিসোদিয়া! দিল্লি আবগারি মামলায় CBI-কে ভর্ৎসনা আদালতের

তবে এভাবে মিথ্যে মামলা দিয়ে যে বিরোধীদের দমিয়ে রাখতে পারবে না কেন্দ্রের মোদি-শাহের সরকার তা স্পষ্ট করে তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে (Saket Gokhale) দাবি করেন, বিজেপি মিথ্যে ও অতিরঞ্জিত মামলা সাজিয়েছিল বিরোধী নেতাদের মানহানি করে তাঁদের ইচ্ছাশক্তি ও মর্যাদাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য। আবারও ইডি, সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের নির্লজ্জ পন্থা প্রকাশ্যে এসে গেল। এই মিথ্যে মামলাগুলির মতই মোদি-শাহর সরকারও খুব দ্রুত পতনের মুখে পড়বে।

Related articles

উন্নয়নমুখী রাজনীতিকে সমর্থন! ৯১ শতাংশ পেরিয়ে বাংলায় নজিরবিহীন ভোটদান

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ছাপিয়ে গিয়েছে ২০১১ সালের ঐতিহাসিক ৮৪.৩৩ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ডও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ...

‘‘সরল পাটিগণিত, বিজেপি হারছে’’! কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ তৃণমূলের 

বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ। বুধবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে শশী পাঁজা এবং কুণাল...

লুঙ্গি পরায় ভোটদানে বাধা কেন্দ্রীয় বাহিনীর! পোশাক দিয়ে ভোটারের বিচারে ক্ষুব্ধ মমতা

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় (Second phase of West Bengal Assembly Election) নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গাইঘাটা...

ইভিএমে টেপ লাগালো দুষ্কৃতী: তাড়াহুড়ো করে পুণর্নির্বাচন নয়, জানালন সিইও মনোজ

পুণর্নির্বাচন একটি বিরাট ব্যাপার। ফলে কোনও বুথ বা কেন্দ্রে পুণর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে গেলে অনেক তদন্ত করতে হবে, স্পষ্ট...