মণীশ কীর্তনিয়া

বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই বড়সড় রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী সোমবার, ২ মার্চ নজরুল মঞ্চ থেকে এই নতুন অভিযানের সূচনা করবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘তফসিলি সংলাপ’। দোলপূর্ণিমার আগের দিন দুপুর ১২টা নাগাদ আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে রাজ্যজুড়ে দলের এসসি, এসটি এবং ওবিসি সেলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, নজরুল মঞ্চের এই অনুষ্ঠান থেকেই কর্মসূচির রূপরেখা এবং রণকৌশল নির্দিষ্ট করে দেবেন অভিষেক। প্রতিটি জেলা ও ব্লকের নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে, কীভাবে তাঁরা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে এই ‘সংলাপ’ চালাবেন। অতীতে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ বা ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’-এর মতো কর্মসূচিতে যেভাবে জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল, এক্ষেত্রেও সেই একই মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। সোমবারের অনুষ্ঠান শেষে নজরুল মঞ্চ থেকেই সুসজ্জিত প্রচারের গাড়িগুলি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে রওনা দেবে।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দ্বিমুখী। প্রথমত, গত এক দশকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তফসিলি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে যেসব জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণ করেছে, তার খতিয়ান সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। দ্বিতীয়ত, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের ওপর হওয়া বিভিন্ন অপরাধ ও অত্যাচারের খতিয়ানকে হাতিয়ার করে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। তৃণমূল নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো, পরিসংখ্যান দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝানো যে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি মানুষেরা কতটা নিরাপদ ও সুরক্ষিত।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কার্যত ‘মহাযুদ্ধ’ হিসেবে দেখছে জোড়াফুল শিবির। মাসখানেক পরেই ভোটের দামামা বেজে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে দলের প্রতিটি শাখাকে সক্রিয় করতে মরিয়া শীর্ষ নেতৃত্ব। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ভার্চুয়াল বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুদ্ধের প্রস্তুতি ছ’মাস আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে। যে সব নেতা-কর্মী এই লড়াইয়ে ময়দানে থাকবেন না, দলও তাঁদের পাশে থাকবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। আগামী তিন মাস দলের বিধায়ক ও সাংসদদেরও এই কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে এবং নিয়মিত কাজের রিপোর্ট জমা দিতে হবে দলীয় কার্যালয়ে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের বেশ কিছু তফসিলি অধ্যুষিত আসনে বিজেপির ভালো ফলের পর, বিধানসভায় সেই জমি পুনরুদ্ধার করতেই তৃণমূলের এই ‘তফসিলি সংলাপ’। নারী শক্তির জন্য মহিলা কংগ্রেসকে নামানোর পর এবার প্রান্তিক মানুষের মন জয়ে সরাসরি ময়দানে নামছে শাসক দল।

আরও পড়ুন – রঙের উৎসবে চলবে না মেট্রো! আংশিক সূচি প্রকাশ কর্তৃপক্ষের

_

_

_
_

