Saturday, February 28, 2026

বিরল রোগ রুখতে অস্ত্র ‘জেনেটিক কাউন্সেলিং’: নজিরবিহীন সাফল্য কলকাতা পুরসভার

Date:

Share post:

বিরল জিনের অসুখ রুখতে নজিরবিহীন সাফল্যের পথে কলকাতা পুরসভা। শহরের সরকারি স্বাস্থ্য কাঠামোর হাত ধরে বংশগত মারণ রোগ আগেভাগে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বড়সড় দিশা দেখাল ‘কল্যাণ নিরূপণ যোজনা’। পুরসভার এই উদ্যোগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ‘অর্গানাইজেশন ফর রেয়ার ডিজিজেস ইন্ডিয়া’ এবং ‘রেয়ার ওয়ারিয়র্স অব বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন’। মূলত বিরল রোগ চিহ্নিতকরণ ও তা প্রতিরোধে এই প্রকল্প এখন শহরজুড়ে চর্চার কেন্দ্রে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে হাতিয়ার করেই এই লড়াই শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে জিনের রোগের ঝুঁকি কতটা, তা আগেভাগে বুঝে নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছে রেফার করা এবং নিখরচায় জেনেটিক কাউন্সেলিং বা পরামর্শ দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পুরসভার সঙ্গে তিন বছরের জন্য মৌখিক ও লিখিত চুক্তি হয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির। তার পর থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ১১ হাজার ৩০০-র বেশি পরিবারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সমীক্ষায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ৭২টি পরিবারকে জেনেটিক্যালি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের শরীরে বিরল রোগের উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়েছে। তবে সব চেয়ে বড় সাফল্য এসেছে অন্য জায়গায়। জিনের রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দু’টি পরিবারকে সঠিক সময়ে পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ায় তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পেরেছেন।

এই সাফল্যের নেপথ্যে আসল কারিগর হলেন আশা ও পুরসভার মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের শেখানো হয়েছে ঠিক কোন লক্ষণ দেখে সন্দেহভাজন রোগী চিহ্নিত করতে হবে। ত্বরান্বিত করা হয়েছে যোগাযোগের মাধ্যমও। চিকিৎসকদের সঙ্গে দ্রুত পরামর্শের জন্য চালু হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবা।

চিকিৎসকদের মতে, বিরল রোগের ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড় বাধা হল রোগ নির্ণয়ে দেরি হওয়া। ততক্ষণে অনেক সময় হাতছাড়া হয়ে যায় চিকিৎসার সুযোগ। পুরসভার এই উদ্যোগ সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। নবজাতকদের কান পরীক্ষা ও বংশগত চোখের রোগ পরীক্ষার মতো আধুনিক পরিষেবাও যুক্ত হতে চলেছে। সব মিলিয়ে, বিরল রোগের মোকাবিলায় কলকাতা এখন দেশের সামনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আরও পড়ুন- সীমান্ত সুরক্ষায় ১০৫ একর জমি, মন্ত্রিসভার কমিটির প্রথম বৈঠকেই ছাড়পত্র

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

নবান্নে বড় রদবদল: ভূমি ও প্রাণিসম্পদ দফতরে নতুন সচিব 

রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বড়সড় রদবদল ঘটাল নবান্ন। ভূমি ও ভূমিসংস্কার এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন— এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব...

হাইকোর্টের সুপারিশে মান্যতা, কলকাতার নতুন শেরিফ চিত্রপরিচালক গৌতম ঘোষ

কলকাতার নতুন শেরিফ হিসেবে মনোনীত হলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ। নবান্ন সূত্রে খবর, কলকাতা হাইকোর্টের সুপারিশ এবং...

সীমান্ত সুরক্ষায় ১০৫ একর জমি, মন্ত্রিসভার কমিটির প্রথম বৈঠকেই ছাড়পত্র

আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-কে কাঁটাতারের...

‘তফসিলি সংলাপ’: সোমে নজরুল মঞ্চে নয়া কর্মসূচির সূচনা অভিষেকের 

মণীশ কীর্তনিয়া বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই বড়সড় রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী সোমবার, ২ মার্চ নজরুল...