২০২৬-এ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের আর্জি জানিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। তাঁর আবেদন গ্রহণ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।

২০২৬-এর নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। এই আবহে মামলাকারী আইনজীবীর অভিযোগ, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আদালতে আর্জি জানিয়েছেন, এবার যেন অবাধ, সুষ্ঠু এবং সর্বোপরি রক্তপাতহীন ভোট নিশ্চিত করতে আদালত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে। বিশেষ করে ভোটের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং গোটা প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি চালাতে উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠনের দাবিও তোলা হয়েছে ওই আবেদনে।

মামলাকারীর পেশ করা নথিতে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট-পূর্ব এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষ, প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ এবং মহিলাদের ওপর নির্যাতনের মতো ঘটনা বাংলার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলঙ্কিত করেছে। সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথমুখী হতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গটিও আদালতকে জানিয়েছেন ওই আইনজীবী।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই প্রেক্ষাপটকে ঢাল করেই এবারের নির্বাচনে আগেভাগে আইনি রক্ষাকবচ চাইছে মামলাকারী পক্ষ। হাইকোর্ট এই মামলাটি গ্রহণ করায় এখন দেখার, আগামী দিনে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে আদালত রাজ্য বা নির্বাচন কমিশনকে কোনও বিশেষ নির্দেশ দেয় কি না।

আরও পড়ুন – আজও নিজের হাতে ‘গণশক্তি’ লাগিয়ে বেড়ান তিনি

_

_

_

_

_

_


