Friday, June 12, 2026

‘দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন কেন?’ আসানসোলে মোদিকে তোপ দেগে কর্মসংস্থানের বার্তা মমতার

Date:

Share post:

শিল্পাঞ্চল আসানসোলের মাটি থেকে লোকসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার আসানসোলের এডিডিএ গ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসভা থেকে একদিকে যেমন তিনি মোদি সরকারকে ‘দেশ বিক্রির’ অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন, অন্যদিকে তেমনই আসানসোল-রানিগঞ্জকে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখালেন।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মোদি সরকারের আমলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়েছে। রেল ও ডিফেন্সে নিয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুবসমাজ দিশেহারা। নেত্রীর দাবি, “কর্মসংস্থান করছে একমাত্র তৃণমূল।” আসানসোলের জন্য তাঁর একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা এদিন তিনি জনসমক্ষে আনেন। তিনি জানান, আসানসোলে তৈরি হচ্ছে সেইল (SAIL) গ্যাসের কারখানা। বন্ধ হয়ে যাওয়া কটন মিলের জমিতে তৈরি হচ্ছে বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার। পাশাপাশি আসানসোল জুড়ে তৈরি হচ্ছে ১,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর। আসানসোল ও রানিগঞ্জকে দেশের অন্যতম লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মঞ্চে উপস্থিত আসানসোল উত্তরের প্রার্থী মলয় ঘটক এবং পাণ্ডবেশ্বরের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে নেত্রী নির্দেশ দেন, এই সমস্ত শিল্প প্রকল্পে যেন স্থানীয় ছেলেমেয়েরাই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চাকরি পায়।

বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “১২ বছর দেশের ক্ষমতায় এসে দেশটাকে কেন বিক্রি করে দিলেন? ১৫ লক্ষ টাকার সেই প্রতিশ্রুতিই বা কোথায় গেল?” চা-বাগান অধিগ্রহণ নিয়ে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সমালোচনাও করেন তিনি। কয়লা পাচার ও অনুপ্রবেশ ইস্যু তুলে তিনি বলেন, “কয়লা এবং সীমান্ত— দুই-ই পাহারা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাহলে পাচার হলে জবাব কার দেওয়া উচিত?”

কোলিয়ারি অঞ্চলের ধস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেত্রী জানান, রানিগঞ্জের মানুষের প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই বাড়িতে যাওয়ার সমস্ত যাতায়াত খরচও রাজ্য সরকার দেবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। এছাড়া বীরভূমের দেউচা পাঁচামি কয়লা খনি প্রকল্পে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

জনসভার শেষে নেত্রী প্রত্যয়ী সুরে বলেন, বিজেপির কাছে কোনো জবাব নেই। তাই এবার বাংলায় ‘দুরন্ত খেলা’ হবে এবং মানুষ বিজেপিকে শূন্যে নামিয়ে আনবে। উন্নয়নের খতিয়ান আর কেন্দ্রের বঞ্চনাকে অস্ত্র করেই যে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন, তা এদিন আসানসোলের সভা থেকে স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন- কেশপুরই হবে বিজেপির শেষপুর! ভোটে জয়ের লক্ষ্য বেঁধে কেশপুরে হুঙ্কার অভিষেকের 

_

_

_

_

_

Related articles

CID-র সঙ্গে কী আলোচনা কীভাবে সংবাদমাধ্যমে: আদালতে যাওয়ার দাবি অভিষেকের

বারবার তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করেছেন। পরবর্তীকালেও তার ব্যতিক্রম হবে না। কিন্তু এবার সেই তদন্তকারী সংস্থার দায়বদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা...

নবান্নে শুদ্ধিকরণ পর্ব? ফাইলের থেকে গুরুত্ব পাচ্ছে গঙ্গাজল

ক্ষমতার পালাবদলের পর নবান্নে (Nabanna) প্রশাসনিক কাজ, মানুষের সমস্যার সমাধানের বদলে এখন শুরু হয়েছে 'শুদ্ধিকরণ পর্ব'। সরকারি দফতরে...

জাতীয় সড়ক আটকে আন্দোলন নয়: প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

পূর্ব নির্ধারিত সূচি মতো শুক্রবার উত্তরবঙ্গের প্রথম প্রশাসনিক কর্মসূচিতে মালদহে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই...

দেব, আপনি কোন দিকে? মমতা না মোদি?

লোকসভার বিদ্রোহীদের দিল্লির বৈঠকে হাজির। আবার সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলছেন, যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, আমি তার সঙ্গে আছি।...