রাজ্যের কোষাগারে টাকা নেই, তাই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের পথ ধরেই পুরো DA দিতে না পারার অক্ষমতা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ রাজ্যের বর্তমান সরকার। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় (BJP Government) আসার পর বারবার মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে আর প্রত্যেকবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) আমলে সরকারি কর্মচারীরা যেভাবে বঞ্চিত হয়েছেন এবার আর তা হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল কথা আর কাজের মধ্যে ফারাক তৈরি হচ্ছে। এই মুহূর্তে সরকারের যা আর্থিক অবস্থা তাতে ১০০ শতাংশ DA দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে শীর্ষ আদালতে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটলো না। 

রাজ্যের তরফে ঠিক কী জানানো হয়েছে? বুধবার নতুন সরকারের তরফে সুপ্রিম আদালতে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়ে জানানো হয় যে রাজ্যের কোষাগারের উপর প্রবল আর্থিক চাপ থাকায় এই মুহূর্তে সরকারি কর্মচারীদের একসঙ্গে পুরো ১০০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণে আদালতের কাছে অন্তত ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বারবার একই সমস্যার কথা জানানো হয়েছিল পূর্বতন সরকারের তরফে। তখন বিরোধী আসনে থাকা বিজেপি সেকথা শুনতে চায়নি। বরং নির্বাচনী ইশতেহার থেকে ভোটের প্রচারে বারবার করে মহার্ঘ ভাতাকে ইস্যু করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হয়েছিল। এখন সরকার বদলেছে, যদিও অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হল না বলেই মনে করছেন সরকারি কর্মীদের একাংশ। রাজ্য সরকারের (Govt of West Bengal) তরফে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে বকেয়া ডিএ-র সম্পূর্ণ অর্থ ২০২৮ সালের মধ্যে চার কিস্তিতে প্রদান করা হবে। তবে যেহেতু বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হল না এবং পরবর্তী শুনানির দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি ফলে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আপাতত ধোঁয়াশায় থাকতে হচ্ছে কর্মচারীদের।