জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র (Birth and Death Certificates) যাচাইয়ের অভিযানের দিনেই বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার (State Government)। বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল (Chief Secretary Manoj Agarwal) জানান, এবার থেকে আর কোনও পুরপ্রধান (Municipal Chairperson) বা পঞ্চায়েত প্রধান (Panchayat Pradhan) এই শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না। সেই দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সরকারি আধিকারিকদের (Government Official) হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্য দফতর (Health Department) গোটা রাজ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নাম ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। একই সঙ্গে ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ধাপে ধাপে পুনর্যাচাই করা হবে। সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে একটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার তৈরির সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার, যা ভবিষ্যতে কেন্দ্রের পোর্টালের সঙ্গেও যুক্ত থাকবে। মুখ্যসচিব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, "কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক এখানে থাকতে পারবেন না।"
এই নিয়ে মনোজ আগারওয়াল বলেন, "১৯৯৭ সালে বামফ্রন্ট রুল সংশোধন করে পঞ্চায়েত প্রধানকে এই সার্টিফিকেটগুলো ইস্যু করার দায়িত্ব দেয়। এর আগে সরকারি কর্মীরা সেটা ইস্যু করত। এরই সঙ্গে সঙ্গে সরকারি জায়গা থেকে রাজনৈতিক জায়গায় চলে গেল এই পদ্ধতি। কোনও আইএএস অফিসার যদি বিদেশেও চলে যান অনৈতিক, বেআইনি কাজ করে তবে আমরা সেখান থেকেও টেনে আনতে পারব। কিন্তু বহু জায়গায় বর্তমানে পঞ্চায়েত প্রধান দফতরেই আসছেন না। বস্তুত কোনও সরকারি অফিসারের দায়বদ্ধতা আছে, পঞ্চায়েত প্রধানের সেই দায়বদ্ধতা নেই। একমাত্র আমাদের রাজ্যেই এরকম বেসরকারি কেউ এইসব সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারত। এটা চলতে পারে না। সব প্রয়োজনীয় নথি আধার কার্ড, প্যান কার্ডসহ সব কিছুর জন্য বার্থ সার্টিফিকেট সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।" পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, "কারও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই জন্ম শংসাপত্র যাচাই শুধুমাত্র একটা নিয়ম। দুর্নীতিমুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ। সরকারি আধিকারিকেরাই এটা যাচাই করবেন। কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মী যাচাই করবেন না।"
এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যসচিব বলেন, "জন্ম শংসাপত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের পরে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এসআইআর (SIR) করতে গিয়ে অনেক ভুলভ্রান্তি ধরা পড়েছে। পুলিশের কাছেও অনেক অভিযোগ এসেছে। অনেক জায়গায় নকল জন্ম শংসাপত্র ধরা পড়েছে। অনেক সুযোগসুবিধা নিয়েছেন অনেকে। নিয়ম থাকলেও বহু অনিয়ম হয়েছে।" বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালিয়ে যাঁদের শংসাপত্র নেই তাঁদের শুনানির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়া হবে। অন্যদিকে, জাল বা বেআইনি শংসাপত্র চিহ্নিত হলে তা বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে তদন্তও করা হবে বলে তিনি জানান।
















