Thursday, March 5, 2026

রাতভর CEO দফতরে ধর্নায় বামেরা! BJP-র বি-টিম তকমা মুছতে দেরিতে কমরেডরা, ব্যাখ্যা তৃণমূলের

Date:

Share post:

নির্বাচন ঘোষণার আগে হঠাৎই সিইও দফতরে বামেরা। একদিকে নির্বাচনের আগে খাস কলকাতায় বহুদিন পরে লাল ঝাণ্ডা যে এখনও আছে, তা দেখতে পেল মানুষ। যদিও সঙ্গে ইফতার পার্টিও দেখা গেল। অন্যদিকে, সিপিআইএম ছাড়াও যে বামফ্রন্টে (Left Front) শরিকদলগুলির গুরুত্ব রয়েছে, তার কিছুটা আভাস পাওয়া গেল বুধবারের কলকাতায়। যদিও নভেম্বর থেকে রাজ্যে এসআইআর (SIR) চলা ও তা নিয়ে মৃত্যুমিছিল, সুপ্রিম-মামলার পরেও মার্চে বামেদের এই বোধোদয়কে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।

বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে স্মারকলিপি (deputation) দিয়ে যায় বামফ্রন্টের শরিকদলগুলি। রাজ্যের সিইও বা তাঁর প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিতে চান তাঁরা। তাঁদের দাবি ছিল, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে যাদের ম্যাপিং (mapping) হয়ে গিয়েছে, তাঁদের বিচারাধীন রাখা যাবে না। যাঁরা এখনও বিচারাধীন কারণসহ তাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। অ্যাডজুডিকেশন (Adjudication) দাগিয়ে দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া যাবে না।

কার্যত যে দাবি নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের জন্য সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছেন, সেই দাবি টুকেই নতুনভাবে রাজনীতির ময়দানে বামেরা। কিন্তু বুধবার সিইও তাঁদের সঙ্গে দেখা না করায় রাতভার সিইও দফতরের বাইরে অবস্থানের কর্মসূচি নেন বাম নেতারা।

বামেদের বিলম্বিত বোধোদয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ উদ্দেশ্য নিয়ে দাবি করেন, এসআইআর নিয়ে যখন তৃণমূল লড়াই করেছে তখন সিপিআইএম মজা দেখছিল। যখন বুঝতে পারছেন নিজেদের লোকের গায়েও হাত পড়ছে, হিন্দু-মুসলমান সবার গায়ে হাত পড়ছে, আর লড়াইটা দিচ্ছেন শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন মনে হয়েছে – আজ রাস্তায় নামা উচিত। যেদিন মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজে সাওয়াল করেছেন সুপ্রিম কোর্টে, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নিজে প্রশংসা করেছেন, সেদিনও এখানকার বিজেপির দালাল সিপিআইএম সমালোচনা করেছে।

আরও পড়ুন : আধার-জটিলতা কাটাতে উদ্যোগ, রাজ্যে আরও একুশটি নতুন কেন্দ্র 

আদতে এখন কেন বামেরা পথে নেমেছে, তা ব্যাখ্যায় কুণালের দাবি, এখন যখন মুখ্যমন্ত্রী আবার ধর্না দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তখন এদের মনে হচ্ছে একটা লোক দেখানো মিছিল অন্তত করি। নাহলে বিজেপির বি-টিমের, বিজেপির এজেন্টের স্ট্যাম্পটা পিঠে লেগে যাবে। এত দেরিতে কেন কমরেড? সব শেষ হয়ে গেল, লড়াইটা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আজ হোলির বাজারে মনে হল রাস্তায় একটু নামি ছবি তুলতে? আজ যখন গোটা ভারত দেখছে লড়াইটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিচ্ছেন, তখন নাটক করছে সিপিআইএম।

spot_img

Related articles

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে বিশ্বের দুই ভাগ স্পষ্ট: ভারতের কী হবে, প্রশ্ন

হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও দেশের জাহাজ যাবে না। ঘোষণা করার পর আবার মত বদল ইরানের। চিনকে (China) অনুমতি...

সেমির আগে ভক্তিতে আস্থা, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জানুন ভারতের সম্ভাব্য একাদশ

টি২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup Final)ফাইনালে উঠার লক্ষ্য নিয়ে লক্ষ্মীবারের সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছে ভারত(India)। মুম্বই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেই...

নাবালকের হাত থেকে চলল গুলি! মানিকচকে আহত ৩

মালদহের মানিকচকে দোল নিয়ে আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বুধবার সন্ধ্যায় রঙ খেলাকে কেন্দ্র করে গুলি চলার (firing)...

‘এই ধরনের গান আর নয়’, সাফ জানালেন শ্রেয়া

ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট ধরনের গান আর রেকর্ড করবেন না— স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন জনপ্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল (Shreya Ghoshal)। এক...