বাংলার মানুষের নাম যথেচ্ছভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বারবার সেই তথ্য তুলে ধরেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মেট্রো চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ (dharna mancha) থেকে সেই তথ্য দিয়ে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের দুর্দশা ও আশঙ্কার কথা তুলে ধরলেন লোকসভার তৃণমূল ডেপুটি স্পিকার শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। সেই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিলেন কীভাবে মোদি-শাহ টার্গেট বেঁধে নির্বাচন কমিশনারকে (CEC) দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শতাব্দী রায় তুলে ধরেন, এসআইআরে যে মানুষগুলোর নাম বাদ পড়ছে সে আপনিও, আপনার মা-বাবাও, আপনার পরিচিত মানুষও। যেমন আমার লোকসভা কেন্দ্রে একটি বুথে ১৩০০ ভোটার আছে। ২০০ জনকে ডাকল। স্বাভাবিক, সন্দেহ থাকতেই পারে। তার মধ্যে কিছু মানুষ মারা গিয়েছেন। কিছু মানুষের দুই জায়গায় ভোট ছিল। ১৩০০ ভোটারের মধ্যে আবার ৫০০ জনকে ডেকে প্রায় ৮০০-৯০০ জনকে ডাকা হচ্ছে। ওদের মাথায় একটা হিসাব চলছে, যদি এই ৮০০ ভোটারকে ডেকে বলা হয় তুমি নাগরিক (citizen) আছো। কিন্তু ভোট দিতে পারছ না (voting right)। কারণ বি-ক্লাস নাগরিকত্বের (citizenship) একটা ভাবনা। যে কোনও দেশের নাগরিকত্বের অধিকারের একমাত্র জায়গা ভোটদান। আমরা কার্ড নিয়ে ঘুরি বা বাবা-দাদুর তথ্য দিই, কিন্তু সেটা প্রমাণ নয়। প্রমাণ হল আমার ভোট দিতে পারি কি না, আমার সেই ক্ষমতা আছে কি না।

আদতে কোন উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন বাংলায় এই আচরণ করছে তার ব্যাখ্যায় শতাব্দী রায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সেলস ম্যানের তুলনা করেন। তিনি সেই ব্যাখ্যায় জানান, সেই জায়গা থেকে ভোটারের অধিকার (voting right) কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটা যারা সেলসের কাজ (salesman) করেন তাঁরা বুঝতে পারবেন। তাঁদের প্রতি মাসে একটা টার্গেট দেওয়া হয়। যদি নির্দিষ্ট ব্যবসা আনতে পারো, তবেই সেই সংস্থায় কাজ থাকবে। নির্বাচন কমিশনকেও প্রায় এই টার্গেট দেওয়া হয়েছে। এতগুলো মানুষকে বাদ দিতে পারলে আগামী দিন ওরা কোনও না কোনও পোস্টে চলে আসবে। কমিশনারের (CEC Gyanesh Kumar) মেয়ে ও জামাই ঠিক ঠিক পোস্ট পেয়ে গিয়েছেন। মানে আগে পুরস্কার দিয়ে দিয়েছেন। সেই পুরস্কার পেয়ে সেই মতো কাজ করছেন।

আর বাংলার মানুষের অধিকারের দাবিতে তৃণমূলনেত্রী ও অভিষেকের লড়াই নিয়ে দিল্লির ঘটনা উল্লেখ করেন শতাব্দী। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার জন্য যা যা করছেন, করলেন, তা ভারতবর্ষের জন্য একটা উদাহরণ হয়ে রইল। একদিন স্পিকার ওম বিড়লা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকেছিলেন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। অভিষেকের সঙ্গে তাঁর প্রজন্মের দু-তিনটি দলের কিছু নেতা গিয়েছিলেন দেখা করতে। সেখানে সবথেকে ঠিক তথ্য, বিহারের সঙ্গে পার্থক্য সবথেকে বেশি ভালো বলে এসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক এই প্রজন্মের নেতা হিসাবে প্রিয় হয়ে উঠেছে তাঁর কাজ দেখিয়ে।

আরও পড়ুন : বড়মার স্বপ্ন পূরণ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বাঙালির শত্রু বিজেপি, ধর্নামঞ্চ থেকে দাবি মমতাবালার

সেই সঙ্গে তৃণমূলনেত্রী প্রসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের প্রিয়। ভারতবর্ষের যে কোনও প্রান্তে যান, একজন ট্যাক্সি চালক থেকে রাজ্যপাল পর্যন্ত একজন ব্যবসায়ীও একটিই কথা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দারুন নেত্রী। যখন তিনি সুপ্রিম কোর্টে গেলেন এসআইআর (SIR) নিয়ে, এবং ইতিহাস তৈরি করলেন বাংলার মানুষের পাশে থাকার জন্য। বাংলার জন্য কতটা লড়াই তিনি করছেন, তিনি জানেন কতটা লড়াই করতে হয় মানুষের জন্য।

–

–

–

–

