দোরগোড়ায় রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। সপ্তাহ শেষ হলেই রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যেখানে ভোট হবে সেই বুথ এবং বুধের সংখ্যা তৈরী নয়। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে কালিগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের সময় থেকেই নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল এবার থেকে কোনো বুথে বারোশোর বেশি ভোটার থাকবে না। সেইমতো দেশের সব রাজ্যগুলোকে বুথের পুনর্বিন্যাস করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সেই নির্দেশ মেনেই সম্প্রতি বিহারের বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি এই রাজ্য তথা পশ্চিমবঙ্গেও বুধের পুনর্ববিন্যাস হয়ে গিয়েছিল। যে সংখ্যা দাঁড়িয়ে ছিল তা প্রায় ৯৫ হাজার। কিন্তু গত ২৭শে অক্টোবর ২০২৫ নির্বাচন কমিশন যেদিন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বারোটি রাজ্যে এস আই আর এর তখন এই রাজ্যে বুথের সংখ্যা ছিল ৮০,৬৮১ টি। এর ওপরেই সম্পন্ন হয়েছে রাজ্যের এসআইআর।

কিন্তু এই এসআইআর করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে বহু সংখ্যক মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। কোথাও দেখা গিয়েছে বুথে মৃত ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি, কোথাও আবার মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছে অন্য বিধানসভা বা অন্য রাজ্যে। বর্তমানে ষাট লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানুষের সংখ্যা যা এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একেবারেই বিচারাধীন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাড়ে ছয় লক্ষ ভোটারের নাম ডিসপোজড হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি তার মধ্যে কত সংখ্যক মানুষের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন এবার যে নির্দেশ দিয়েছিল সেই মোতাবেক রাজ্যে থাকা হাইরাইজ বিল্ডিং এ বুথ তৈরী করার জন্য,তাতেও একেকবার একেক রকম সংখ্যা হয়েছে। সবকিছু ছাঁটকাট করে এই মুহূর্তে রাজ্যে বুথের সংখ্যা রয়েছে ৮০,৭১৯ টি। আর এই বুথ সংখ্যার উপরেই নির্ভর করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন করাতে চলেছে। আরও পড়ুন: যাত্রী সাচ্ছন্দ্য বাড়াতে বাস সংস্কারের উদ্যোগ রাজ্যের

অন্যদিকে গতবছর রাজ্যের বুথ গুলোকে একইরকমভাবে তৈরী করতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর টেন্ডার দিয়েছিল ম্যাকিন্টোস অ্যান্ড কোম্পানিকে। তাঁরা প্রথমে দায়িত্ব নিলেও রাজ্যের সবদিক ঘুরে দেখার পর সরে দাঁড়ায় এই কাজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে। তারপর দায়িত্ব যায় রাজ্য সরকারের ওপর। একটা বুথকে ঠিক মতো তৈরী করতে গেলে দরকার প্রাথমিক ভাবে – বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা,আলো, বিদ্যুৎ,পাখা,জানলা, দরজা, বাথরুম এবং বুথের বাইরে বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য ঢোকা ও বেরোনোর জায়গা। এখানেও প্রশ্ন উঠছে সেই বুথের পরিকাঠামো এখনও পর্যন্ত তৈরী করে উঠতে সক্ষম হয়নি রাজ্য সরকার।

নির্বাচন কমিশন এখন নিজেরাই নিজেদের যাঁতাকলে পড়ে গিয়েছে। কারণ এখনও পর্যন্ত ঠিক নেই আদপে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত কতজনের নাম সংযুক্তিকরণ হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যা দিয়ে নির্বাচন হবে এই রাজ্যের। বুথের পাশাপাশি গণনা কেন্দ্রের সংখ্যাও চূড়ান্ত হয়নি এখনও পর্যন্ত। হাতে মাত্র আর কটা দিন তারপরেই রাজ্যে আসতে চলেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ কিন্তু বুথ, বুথের সংখ্যা এবং গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে কি হবে তার নির্দিষ্ট কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কর্মকর্তারা। তাই নির্বাচন এক দফাতেই হোক বা একাধিক কিন্তু বুথ ও বুথের সংখ্যা চূড়ান্ত না করে কি করে নির্বাচন হবে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত এখন কমিশন। ভোট শান্তিপূর্ণ হবে কি হবে না সেসব অনেক পরের কথা, আদপে কত সংখ্যক বুথে ভোট হবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত যট থেকেই যাচ্ছে।

–

–

–

–

–

–

