ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনামঞ্চ থেকে এবার বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা তন্ময় ঘোষ। শনিবার ধর্মতলার ওই সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, কোনও নাগরিককে ‘বিদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার একতরফা অধিকার কারও নেই।

তন্ময় ঘোষের অভিযোগের তির সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই এসআইআর-এর মাধ্যমে বাংলার মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা আগেভাগেই ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে। তবে তৃণমূলের তৎপরতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেই ছক সফল হতে দেওয়া হয়নি বলেই দাবি করেন তিনি।

এদিন তন্ময় ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ম মেনে এসআইআর করার কথা বললেও বিজেপি তড়িঘড়ি করে মাত্র দু’মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মাটিতে মানুষের সমর্থন না পেয়ে বিজেপি কখনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে, আবার কখনও নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে রাজ্য দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। কমিশনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন এখন যেন ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’-এ পরিণত হয়েছে।

মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতেও এদিন সরব হন এই তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মতুয়াদের নাম বাদ যাবে না, কিন্তু বাস্তবে মতুয়াগড় এলাকাতেই খসড়া তালিকায় প্রায় ৯ শতাংশ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। রাজস্থানে এক মতুয়া ব্যক্তিকে হেনস্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমনকি ক্রিকেটার রিচা ঘোষের নামও ভোটার তালিকায় নেই বলে এদিন দাবি করেন তিনি। তন্ময় ঘোষের মতে, এই লড়াই শুধু রাজনীতির নয়, বরং বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই। বিজেপিকে বাংলার মাটি থেকে রাজনৈতিকভাবে উৎখাত করার ডাক দিয়ে তিনি কর্মীদের নির্দেশ দেন, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে গণপরিবহণ— সব জায়গায় বিজেপির এই ‘ভোট চুরির’ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে হবে। তাঁর কথায়, তৃণমূল প্রতিশোধে নয়, বরং গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে আর সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী প্রথম থেকেই অবিচল।

আরও পড়ুন- নেপাল নির্বাচন: ওলিকে বিপুল ব্যবধানে পরাস্ত করলেন ‘ভাবী প্রধানমন্ত্রী’

_

_

_

_

_
_

