দোরগোড়ায় বাংলার বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election), ঠিক তার আগে আচমকা রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose) । কেন? তা এখনও স্পষ্ট নয়। মোদি- শাহদের চাপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত কিনা, সেই জল্পনার মাঝেই এবার কেরালায় যাওয়ার কথা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করলেন বিদায়ী রাজ্যপাল। তিনি লেখেন, ”বাংলায় আমার ইনিংস শেষ হতে চলেছে। বাংলার মানুষদের কাছে স্নেহ ও শুভেচ্ছার জন্য ঋণী। কেরলম আমার রাজ্য। আমি কেরলমে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে কাজ করব। এই মহান লক্ষ্যে আমি জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় কাজ করব। নিজের রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করব।’ আনন্দ বোসের এই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২০ মাস আগেই সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগ চমকে দিয়েছে সকলকে। তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ভোটমুখী বাংলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অফিসারকে বাংলার রাজ্যপাল হিসাবে নিয়ে আসা একাধিক জল্পনা উসকে দিয়েছে। এসবের মাঝে হঠাৎ করে প্রকাশ্যে এসেছে বোসের পদত্যাগ পত্র। তিনি X হ্যান্ডেলে নতুন রাজ্যপালকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।তিনি আরও লেখেন, ‘যাঁরা আমাকে বড় করেছেন সেই কেরলমের বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার নির্দশন হিসাবে গ্রহণ করেছি। আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমি জনগণের জন্য, জনগণের জন্য, জনগণের পাশাপাশি কাজ করব।’ বিদায় রাজ্যপালের এহেন পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা কাটাছেঁড়া। পদত্যাগের পর এবার কি তাহলে কেরালায় ফিরে যাওয়ার জন্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে আনন্দ বোসের উপরে? রাজনৈতিক মহলে যখন এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে ঠিক তখনই ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শনিবার বলেন, “দেখলেন তো এখানকার মাননীয় প্রাক্তন রাজ্যপালকে কীভাবে সরানো হল। কেন সরানো হয়েছে জানি। ভয় দেখিয়ে। রাজভবনটা বিজেপির পার্টি অফিস হবে। ওখান থেকে টাকা বিলি হবে।” তাহলে কি ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি মানতে পারেননি বলেই সরিয়ে দেওয়া হল বোসকে। মমতার কথায় সেরকমই ইঙ্গিত।কেন্দ্রকে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, “কারণটা আমি জানি। আমি বলব না। কিন্তু তাঁকে থ্রেট করা হয়েছে। এটুকু বলব। অনেকে চায় না রাজভবনটা বিজেপির পার্টি অফিস হোক। ওখান থেকে টাকা বিতরণ হোক। এরা নৈতিকতা মানে? এরা মহম্মদ বিন তুঘলকের জ্যাঠার জ্যাঠামশাই।” বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্লজ্জভাবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত করে যেভাবে বাংলায় রাজ্যপাল বদল করা হয়েছে তার বিরোধিতায় সরব রাজ্যের শাসক দল।

–

–

–

–

–

–

–

–

