শরীরে অস্ত্রোপচার হয়েছে মাত্র কয়েক দিন আগে। ক্ষত এখনও কাঁচা, যন্ত্রণায় সোজা হয়ে দাঁড়ানোই দায়। এই অবস্থায় চিকিৎসার সমস্ত নথিপত্র হাতে নিয়ে ছুটির আবেদন জানিয়েছিলেন এক লোকো পাইলট। কিন্তু অভিযোগ, সব দেখেও মন গলেনি রেল কর্তৃপক্ষের। উল্টে তাঁকে দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বারবার অনুনয়-বিনয় করেও কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চরম পথ বেছে নিলেন ওই রেলকর্মী। নিজের শারীরিক অবস্থার প্রমাণ দিতে খোদ অফিসের মধ্যেই প্যান্ট খুলে অপারেশনের ক্ষতস্থান দেখাতে বাধ্য হলেন তিনি।

রেলের এক লোকো পাইলটের এই অসহায়তার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশজুড়ে। রেল কর্তৃপক্ষের অসংবেদনশীল মনোভাব নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। জানা গিয়েছে, লোকো পাইলট রাজেশ মীনা দীর্ঘ দিন ধরে পাইলসের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি লখনউয়ে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পরেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এবং অসহ্য যন্ত্রণা থাকায় তিনি ছুটি বাড়ানোর আবেদন জানান।

রেলওয়ে হেলথ ইউনিটের চিকিৎসকরাও রাজেশের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে জানান যে, তাঁর আরও কিছু দিন বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। সেই মতো প্রয়োজনীয় ‘সিক মেমো’ পাওয়ার জন্য তিনি ক্রু কন্ট্রোলার এবং চিফ ক্রু কন্ট্রোলারের কাছে সমস্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেন। কিন্তু অভিযোগ, সমস্ত নথিপত্র দেখার পরেও ছুটি মঞ্জুর করতে অস্বীকার করেন আধিকারিকরা। তাঁকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, অবিলম্বে ডিউটিতে যোগ দিতে হবে।

যন্ত্রণায় কাতর ওই রেলকর্মী বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, লোকো পাইলটের মতো দায়িত্বপূর্ণ কাজ এই শারীরিক অবস্থায় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ অনড় থাকায় নিরুপায় হয়ে সহকর্মীদের সামনেই নিজের পোশাক খুলে অপারেশনের ক্ষত দেখাতে বাধ্য হন তিনি। সেই মুহূর্তের ভিডিওটি ক্যামেরাবন্দি করেন উপস্থিত অন্য কর্মীরা।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রেলকর্মী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অল ইন্ডিয়া লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএলআরএসএ) পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে চরম অপমানজনক বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত রাজেশের ছুটি মঞ্জুর করা হলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। যে আধিকারিকরা অসুস্থ কর্মীকে এমন চরম অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে কর্মী ইউনিয়নগুলি। যদিও এই বিষয়ে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আরও পড়ুন – ভোটের আগে বাংলা ভাগের চক্রান্ত: মমতার হুঁশিয়ারির পরই বদলে গেল সিদ্ধান্ত

_

_

_

_
_

