বাংলার মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে যে চক্রান্ত রাজভবন থেকে বিজেপি চালাচ্ছে, শনিবার তা নিয়ে মেট্রো চ্যানেলের ধর্না মঞ্চ থেকে সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিজেপির মনোমত রাজ্যপাল (Governor) আর এন রবিকে (R N Ravi) নিয়োগের জন্য প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে (C V Ananda Bose) হুমকি দিয়ে সরানোর অভিযোগ তুললেন তিনি। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সময়ে রাজভবন (Rajbhavan) থেকে বিজেপির টাকা বিলির পর্দাও ফাঁস করলেন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্লজ্জভাবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় (federal structure) আঘাত করে রাজ্যপাল বদল বাংলায়। আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার প্রকাশ্যে এই বদলের পিছনে বিজেপির উদ্দেশ্য তুলে ধরলেন ধর্না মঞ্চ (dharna mancha) থেকে। তিনি দাবি করেন, দেখলেন তো এখানকার মাননীয় প্রাক্তন রাজ্যপালকে কীভাবে সরানো হল। কেন সরানো হয়েছে জানি। ভয় দেখিয়ে। রাজভবনটা (Rajbhavan) বিজেপির পার্টি অফিস (BJP party offie) হবে। ওখান থেকে টাকা বিলি হবে।

আদতে সি ভি আনন্দ বোসের পরিবর্তে আর এন রবিকে বাংলার রাজ্যপাল পদে বসানোর পরে জানানো হয় বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। বিজেপির কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য রবিকে বাংলায় আনা তা বলতে গিয়ে মমতা জানান, আর যাকে নিয়ে এসেছেন তাঁর বিরুদ্ধে, তামিলনাড়ুতে (Tamilnadu) তিনি যখন ছিলেন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কোনও কাজ করেন না বিজেপি ছাড়া। বিজেপির একেবারে প্যারেড (parade) করা ক্যাডার।

কিন্তু এভাবে যে বাংলায় কোনও উদ্দেশ্য সাধন বিজেপি করতে পারবে না, তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। মমতার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, বাংলা কিন্তু অন্য রকম। তামিলনাড়ুতে যা করেছেন করেছেন। রোজ স্ট্যালিনদের ফেস করতে হয়েছে।

আদতে বিজেপি নিজের উদ্দেশ্য সাধন করতে কোনও পদ, কোনও ব্যক্তির কোনও সম্মান বজায় রাখে না, বাংলার রাজ্যপাল বদল তার আরও এক উদাহরণ। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, যে বাংলায় ভোটের একমাস কেন বদল করলেন? কাউকে সময় শেষ করতে দিচ্ছেন না। যা করেছেন ধনকড়কে। ধনকড়ও তাই করেছিলেন। বিজেপির কি করেনি। তাঁকে নির্বাচনের পরে উপরাষ্ট্রপতি পদে। তারপরে নজরবন্দি। গৃহবন্দি। আনন্দবাবুকেও এখানে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হল।

আরও পড়ুন : একযোগে ৯ রাজ্যের রাজ্যপাল বদল! পদত্যাগের পর কী বললেন বোস

বিজেপির সেই নীতিকে মানেননি বলেই কী সরে যেতে হল রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে? শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় তারই ইঙ্গিত। তিনি দাবি করেন, কারণটা আমি জানি। আমি বলব না। কিন্তু তাঁকে থ্রেট করা হয়েছে। এটুকু বলব। অনেকে চায় না রাজভবনটা বিজেপির পার্টি অফিস হোক। ওখান থেকে টাকা বিতরণ হোক। এরা নৈতিকতা মানে? এরা মহম্মদ বিন তুঘলকের জ্যাঠার জ্যাঠামশাই।

–

–

–

