আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আবহে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন সাংসদ মালা রায়। এদিন নারী অধিকার এবং সমমর্যাদার লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরাসরি নিশানায় নিলেন বিজেপিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে কেন পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে?

সাংসদ মালা রায় বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস আসলে সমান মজুরি ও সম্মানের লড়াইয়ের দিন। এই লড়াইয়ের অগ্রভাগে সর্বদা থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএমের আমলের অত্যাচার ও বঞ্চনার ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ সেই দুঃসময় থেকে মুক্তির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আমি বিরোধী দলের নারী নেত্রীদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা কি আপনাদের আছে? মশার কামড় থেকে শুরু করে হাজারো রাজনৈতিক চাপ সহ্য করে নেত্রী ধর্ণায় বসেছেন, মানুষের জন্য আইনি লড়াই লড়েছেন।

ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়ে মালা রায় বলেন, যারা গত পঞ্চায়েত, লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, তাদের ভোটাধিকার কি হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল? অনেক সময় নথিপত্রে বাবা-মায়ের নাম পাওয়া যায় না বলে তা নিয়ে ষড়যন্ত্র করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? এটি শুধুমাত্র ভোট হারাতে ভয় পাওয়া এক প্রকার চক্রান্ত। যারা প্রকৃত নাগরিক, তারা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবেনই।

কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির সমালোচনা করে সাংসদ আরও বলেন, মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া বা চাকরি দেওয়া—কোনো প্রতিশ্রুতিই বিজেপি রাখেনি। প্রত্যেক নির্বাচনের আগে ব্যাংকে টাকা দেওয়ার গল্প শোনানো হয়, অথচ বাস্তবে বাংলার মানুষের প্রাপ্য আবাস যোজনা বা ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিজের বক্তব্যের শেষে সাংসদ মালা রায় বলেন, মানুষ যাকে দেবতাতুল্য মনে করেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে কেন্দ্রীয় সাহায্য মেলেনি, সেখানে রাজ্য নিজের কোষাগার থেকে জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্প সফলভাবে চালাচ্ছে। মানুষের সেবাই যে আসল ধর্ম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা বারবার প্রমাণ করেছেন।

আরও পড়ুন- মিথ্যাচারের জবাব! মথুরাপুরের সভা থেকে বিজেপিকে কড়া বার্তা তৃণমূলের

_

_

_

_

_
_

