নির্বাচনের আগে একের পর এক ইস্যু তৈরি করে বাংলার শাসকদলকে চাপের মুখে রাখার চেষ্টা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও দাবি করেছেন নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করে কোনওভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। কার্যত রবিবার তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। একদিকে যেভাবে প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে (C V Ananda Bose) পদ থেকে সরাতে চক্রান্ত করেছিল অমিত শাহর (Amit Shah) দফতর, তা যেমন তুলে ধরলেন তিনি। তেমনই যেভাবে একটি বেসরকারি সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রপতিকে (President of India) অপমানে বাংলাকে অভিযুক্ত করার ষড়যন্ত্র হয়েছে, তারও পর্দা মেট্রো চ্যানেলের ধর্না মঞ্চ থেকে ফাঁস করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

বাংলাকে অপমান করা যে বিজেপির ষড়যন্ত্র তা প্রতিবার নির্বাচনের আগে স্পষ্ট হয়ে যায়। আর এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার ভেদাভেদের রাজনীতি চালাচ্ছে বিজেপির কেন্দ্র থেকে রাজ্যের নেতারা। দাবি করা হচ্ছে বাংলার শাসকদল প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা মানুষদের আশ্রয় দিয়েছে। আদতে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকে যেভাবে বাংলায় সম্প্রীতি বজায় রেখেছে তা তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিজেপি বিশ্রী প্রচার চালাচ্ছে। আমি না কি মুসলিমদের বাংলায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাঁরা আরও আগে থেকে আছেন। তখন আমি জন্মেছিলাম? স্বাধীনতার লড়াই যখন হয়েছিল তখন আপনি কোথায় ছিলেন? ব্রিটিশের দালালি করছিলেন। যাদের কিছু বলার থাকে না তারা উল্টোপাল্টা বলে। ওদের মাথায় যে ধর্ম, ইতিহাস, ন্যায় সেটাই গ্রহণ বাকি সব বর্জন।

বিজেপির সেই চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি থেকে বাঁচতে পারেননি বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও, ধর্না মঞ্চ থেকে তারও ব্যাখ্যা দেন তৃণমূল নেত্রী। দাবি করেন, দখল করতে বাংলা, বিজেপি হয়েছে হ্যাংলা। কোন পর্যায়ে নামেনি। যত সাংবিধানিক পদ (Constitutional post) রয়েছে সব বিজেপি বেচতে আসছে। রাজ্যপালকে (Governor of West Bengal) চলে যেতে হল কেন? একটা ছোট্ট তদন্ত (enquiry) হয়ে যাক। তাঁর তো তিন বছরের মেয়াদ ছিল।

সেই প্রসঙ্গে তিনি টেনে আনেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের প্রসঙ্গও। প্রশ্ন তোলেন, ধনকড়কে (Jageed Dhankar) উপরাষ্ট্রপতি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হল কেন? একটা ছোট্ট তদন্ত (enquiry) হোক। সিবিআই-কে দিয়ে তদন্ত করিয়ে তো লাভ নেই। আমাদের সিআইডি-কে দায়িত্ব দিন আমরা করে দিচ্ছি। ধনকড়জিও বাংলার রাজ্যপাল ছিলেন। তাঁকে দিয়ে আমায় কত গাল দিয়েছেন, কত ফাইল আটকেছেন। কিন্তু তবু একটা সৌজন্য আমি বজায় রাখতাম। যিনি আনন্দ বোস ছিলেন, তাঁর সঙ্গে আমার এখনও কথা হয়নি সেভাবে। হঠাৎ করে তাঁকে সরালেন কেন? সেই দিন তো ওনার কথা ছিল বাগডোগরায় রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো। হঠাৎ তাঁকে দিল্লিতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে ইস্তফা দেওয়ালেন কী? প্রশ্ন তো থাকবেই, জবাব আপনাকে দিতে হবে। আর কত ইয়েস ম্য়ান চাই।

আরও পড়ুন : রাষ্ট্রপতিকে দাঁড় করিয়ে রেখে অসম্মান! প্রধানমন্ত্রীকে সংবিধান প্রশ্নে জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

আদতে যে বাগডোগরায় গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানানোর কথা ছিল তৎকালীন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের, সেই অনুষ্ঠানকে নিয়ে রাজনীতি করতে মাঠে নেমেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আদতে নির্বাচনের আগে যেভাবে নিজেদের সংস্থাকে চাপ দিয়ে, কাজে লাগিয়ে বাংলার বিরুদ্ধে কুৎসার রাজনীতি করতে শুরু করেছে বিজেপি, তাও এদিন ফাঁস করে দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কালকের গেমটা তো প্রিপ্ল্যান ছিল । আমি মাননীয়া রাষ্ট্রপতি মহাশয়াকে কোনও দোষ দিই না। এটা বিজেপির গেম প্ল্যানটা করেছিল ওদের কোনও প্রাইভেট অর্গানাইজেশনকে দিয়ে। আমরা বারণ করেছিলাম যে এরা পারবে না। কিন্তু বিজেপির পছন্দ।


