পেশায় শিক্ষিকা। কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বলে সিইও (CEO) অফিসে অপমানিত হতে হয়। কিন্তু সম্মান দিয়েছেন তৃণমূল সভানেত্রী। সোমবার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আবেগে ভাসলেন রিয়া সরকার (Ria Sarkar)। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভূয়সী প্রশংসা করে রিয়া বলেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মানুষ যিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ভেদ না করে সকল মানুষকে সমান সম্মান ও অধিকার দিয়েছেন।“

ডায়মন্ড হারবারে সমলিঙ্গের যুগলকে সংবর্ধনা দেওয়া ব্যবস্থা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সবচেয়ে বড় চমক তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায়। তৃণমূলের প্রতিনিধি হয়ে রাজ্যসভায় গেলেন সুপ্রিম কোর্টের সমকামী সিনিয়র আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। আর এবার মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না মঞ্চে বক্তা ট্রান্সজেন্ডার রিয়া সরকার।

এদিন মঞ্চে নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে রিয়া (Ria Sarkar) জানান, “কিছুদিন আগে শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা মুখ্য নির্বাচনীয় আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে সিইও অফিসে গিয়েছিলেন। কিন্তু আগরওয়াল বাবু তাঁদের সঙ্গে দেখা করেননি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। কেউ জল পর্যন্ত দেয়নি। আমিও গিয়েছিলাম। বলেছিলাম আমার বাচ্চাদের মাধ্যমিক পরীক্ষা। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বলে কমিশনের অপমান করেছিল আমাকে। বলেছিলাম, আগে মানুষ হন তারপর কমিশনের তাবেদারি করবেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মানুষ যিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ভেদ না করে সকল মানুষকে সমান সম্মান ও অধিকার দিয়েছেন।“ কথা বলতে গিয়ে আবেগে গলা বুজে আসে রিয়ার।

এর পরে বলতে উঠে তৃণমূলের যুব নেতা সুদীপ রাহা বলেন, “আজকে ভারতে একটা ইতিহাস তৈরি হল। এই মঞ্চ থেকে ধর্ম-বর্ণ লিঙ্গ সবকিছুর বেড়াজাল ভেঙে গিয়েছে। আমরা বিজেপির মতো নয়, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপন কিন্তু কেউ কোনও সুবিধা পায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে যখন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এলেন তখন কৃষ্ণনগর কলেজের একজন অধ্যক্ষ হয়েছিলেন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ও তিনি ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি থেকেও এসেছিলেন। সিপিএম কোনদিনও ফিরেও তাকায়নি, যিনি তাকিয়েছেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।“

–

–

–

–

–

–

