বিশ্বকাপ সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন, ব্রাত্যজন থেকে নায়কের নাম সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষটির কথা স্মরণ করলেন সঞ্জু। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করে স্ত্রী চারুলতা স্যামসনের ভাগ করে নিলেন স্মৃতি।

সঞ্জুর ব্যক্তিগত জীবনের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। তাঁর স্ত্রী চারুলতা স্যামসনের (Charulatha Samson) সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকে। পরে কলেজে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। সাধারণ কথাবার্তা থেকে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, আর সেই বন্ধুত্বই সময়ের সঙ্গে প্রেমে পরিণত হয়। চারুলতার পেশায় একজন উদ্যোগপতি।

দু’জনের ধর্ম আলাদা হলেও সম্পর্কের পথে কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সঞ্জু একজন খ্রিস্টান পরিবারের সন্তান, আর চারুলতা কেরলের হিন্দু নায়ার সম্প্রদায়ের মেয়ে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর কেরলের কোভালামে পারিবারিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁদের বিয়ে হয়।

ক্রিকেট জীবনের কঠিন সময়েও সঞ্জুর পাশে থেকেছেন চারুলতা। বিশেষ করে নিউ জিল্যান্ড সিরিজে খারাপ ফর্মের সময় তিনি স্বামীর উদ্দেশে সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা লিখেছিলেন—সব প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে কখনও কখনও সময়ের উপর ভরসা রাখার কথা। সেই সমর্থনই আজও সঞ্জুর পথচলায় বড় শক্তি হয়ে রয়েছে।

সঞ্জু প্রেমপত্রে তাঁর স্ত্রীর জন্য লিখেছেন , যে দিন থেকে তোমার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, সে দিন থেকে আজ পর্যন্ত। আমার পাশে থাকার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আমি যেমনই হই, আমাকে ভালবেসেছ। বহির্বিশ্বের কাছে আমি যা-ই হই না কেন, তুমি আমার কাছে সৎ থেকেছ। আমার ভাল দিক, খারাপ দিক, সবটাই দেখেছ। তারপরেও আমার সঙ্গে থেকেছ। আমার জীবনে ক্রিকেট কত বড়, সেটা বোঝার জন্য ধন্যবাদ। নিজেকেও তার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছ। এই মুহূর্তটার জন্য আমি যেরকম অপেক্ষা করেছিলাম, স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই একই রকম ভাবে তুমিও করেছ।

তাঁর সাফল্যের নেপথ্যে যে সচিনের অবদান আছে সেটাও উল্লেখ করেছেন সঞ্জু। সোমবার আহমেদাবাদ থেকে বাড়ি ফিরে যান ক্রিকেটার সার্পোট স্টাফরা। মুম্বইয়ে শিবম দুবে ফিরতেই তাঁকে জনতা বরণ নেয়। কেরলে সঞ্জু ফিরতেই তাঁকে নায়কোচিত সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে সিরাজকে বরণ করে নেওয়া হয় হায়দরাবাদে। আপাতত সেলিব্রেশনের কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই টিম সূত্রের খবর।

–

–

–

–

