ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে নারী দিবসের দিন এবার সুর চড়ালেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’-এর সদস্য অধ্যাপিকা তানভীর নাসরিন। নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের আবহে তিনি স্পষ্ট জানালেন, বাংলার পিছিয়ে পড়া মহিলা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই আজ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তানভীর নাসরিন বলেন, আজ তৃণমূল না থাকলে আমাদের হয়তো ‘অনুপ্রবেশকারী’ বা ‘রোহিঙ্গা’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

অধ্যাপিকা নাসরিন তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় মুসলিমদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে কাতারের জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষের নাম বাংলা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এই কঠিন সময়ে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে পথে নেমে প্রতিবাদ করছেন, তার জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানান অধ্যাপিকা।

তাঁর মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রূপশ্রী বা কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পগুলি কেবল আর্থিক সাহায্য নয়, বরং গ্রামীণ মহিলাদের সচলতা বা ‘মোবিলিটি’ বাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রেলের টিকিট কাউন্টার থেকে মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তুলে দেওয়ার ফলে মফস্বলের মেয়েদের চরম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নারীদের যখনই প্রান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সরব হতে শিখিয়েছেন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তানভীর নাসরিন বলেন, আজ তৃণমূল না থাকলে আমাদের হয়তো ‘অনুপ্রবেশকারী’ বা ‘রোহিঙ্গা’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। অসম্মান করার যে চক্রান্ত বিজেপি শুরু করেছিল, মুখ্যমন্ত্রী তাকে সমূলে উৎপাটন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ওপর রাজনৈতিক আক্রমণের তীব্রতা যত বাড়বে, সাধারণ মানুষ এবং সংখ্যালঘু মহিলারা তত বেশি করে তৃণমূলের পাশে দাঁড়াবেন বলে এদিন দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যত আক্রমণ করা হবে, ভোট বাক্সে তত বেশি করে তার জবাব দেবেন বাংলার মেয়েরা।

আরও পড়ুন- টিম ইন্ডিয়ার পারফরম্যান্সে গর্বিত মোদি-রাহুল, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছার বন্যা

_

_

_

_

_
_

