পেশাদারী কেন্দ্রীয় বাহিনী। ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিং। নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। পেশ করলেন এমন তথ্য যেখানে প্রমাণ হয় নির্বাচনের আগে সবকিছু খুব সুন্দর। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) কথায় কোথাও বাংলার মানুষের হয়রানি ও উদ্বেগে মৃত বাংলার মানুষের কোনও উল্লেখ নেই। সুপ্রিম কোর্টের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত অ্যাডজুডিকেশনে (adjudication) থাকা ভোটারদের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (supplementary voter list) প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হলেন জ্ঞানেশ কুমার। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিলেন কোনও বৈধ ভোটারের (eligible voter) নাম বাদ যাবে না।

রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক দল যেখানে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর প্রশ্ন তুলে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ রাজ্যে নেই, এমন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে, সেই সময়ে সাংবাদিক বৈঠক থেকে জ্ঞানেশ কুমারের স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচনের সমস্ত প্রস্তুতি উপর নজরদারি চালিয়েছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ (Election Commission full bench)। বিএলও, নতুন ভোটার থেকে নির্বাচনের আইকনদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাংলায় গণতন্ত্র অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলার মোট ভোটার সংখ্যা ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, উরুগুয়ের মিলিত ভোটার সংখ্যার সমান।

২৮ ফেব্রুয়ারির তথ্য পেশ করে তিনি আবার তুলে ধরেন রাজ্যে এসআইআর (SIR) করে কীভাবে মোট ভোটার সংখ্যা কমে গিয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে ১০ লক্ষ অ্যাডজুডিকেশন সমস্যার সমাধান হলে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে, সেভাবেই তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার দাবি করেন, রাজ্যের সব বৈধ ভোটারকে ভোটার তালিকায় রাখাই নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য। কিন্তু সেক্ষেত্রে যেভাবে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি (logical discrepancy) করে বাংলার মানুষকে হেনস্থার মুখে ফেলেছে তেমন আর কোনও রাজ্যে কী করা হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যান জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সাফাই, যেখানে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটাররা নিজেদের ম্যাপড করতে ব্যর্থ বা ভুলভাবে ম্যাপ করেছেন, তাঁদের লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় আনা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সব রাজ্যেই হয়েছে। বাংলায় এই সংক্রান্ত ঘটনা এত বেশি বলেই মাইক্রো অবজার্ভার (micro observer) নিয়োগ করা হয়েছে। কার্যত স্বীকার করেই নিলেন বাংলার জন্যই আলাদাভাবে এই পদ তৈরি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)।

বাংলার মানুষকে শান্তিপূর্ণ অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি জ্ঞানেশ কুমার সোমবার থেকেই দিয়ে আসছেন। কিন্তু তার জন্য যে তাঁর সেই পুরোনো কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ওয়েব কাস্টিং-ই (web casting) ভরসা, তাও জানায় কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) সঞ্চালন পেশাদারী পদ্ধতিতে স্থানীয় থানার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর শরীরে লাগানো ক্যামেরাতেও ওয়েব কাস্টিংয়ের সুবিধা থাকবে। সেই সঙ্গে ১০০ শতাংশ বুথে থাকবে ওয়েব কাস্টিং। কিন্তু সেই ওয়েব কাস্টিংয়ের উপর নজরদারি নিয়ে কোনও নতুন দিশা নেই নির্বাচন কমিশনের কাছে।

আরও পড়ুন : বাংলায় শান্তিপূর্ণ, ভয়মুক্ত নির্বাচন: পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূল, প্রমাণ করলেন জ্ঞানেশ

নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাংলা-বাংলাদেশ সীমান্তের নির্বাচন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিরাপত্তা প্রদান, তা নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়েই গেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই সঙ্গে রাজ্যের সব শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও সংহত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান তিনি। অর্থাৎ স্পষ্টভাবে নির্বাচনে কোনও রকম অশান্তির দায় রাজ্যের পুলিশের উপরই দিয়ে রাখলেন জ্ঞানেশ কুমার। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশে কী ব্যবস্থা, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এড়িয়েই গেলেন তিনি।

–

–

–

