ঐতিহাসিক! দেশে প্রথম ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

Date:

Share post:

মৃত্যুর নাম যখন ইউথেনেশিয়া (Euthanasia) তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে বছরের পর বছর অসম্ভব যন্ত্রণায় কাটানো কিছু অব্যক্ত লড়াইয়ের কথা। ‘স্বেচ্ছামৃত্য’ শব্দটা হলিউড সিনেমায় একাধিকবার চিত্রনাট্য হয়ে উঠে এসেছে। এবার ভারতবর্ষের বুকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। প্রায় ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা যুবককে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

একটা দুর্ঘটনায় বদলে গেছিল জীবন। মস্তিষ্কে আঘাত পেয়ে এক যুগের বেশি সময় ধরে কোমায় বত্রিশ বছরের হরিশ রানা (Harish Rana) ।তাঁর প্রিয়জন চোখের সামনে পরিবারের সদস্যকে মরতে দেখছেন, কিন্তু তাঁর শ্বাস চলছে, হৃৎপিণ্ড জানান দিচ্ছে কী প্রচণ্ড যন্ত্রনায় ভেতরে ভেতরে ছটফট করছে ছেলেটা, কিন্তু বাইরে তাঁর কোনও সার নেই। এ অবস্থা কত দিন সহ্য করা যায়? চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন সুস্থ হওয়ার কোন আশা সত্যিই হয়তো নেই। এক বছর দু বছর করতে করতে ১৩ বার বদলেছে ক্যালেন্ডার, কিন্তু কোমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি হরিশ। পরিবার চেয়েছিল এবার ছেলেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হোক। আবেদন জানানো হয় সর্বোচ্চ আদালতে। শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দু’টি মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ শোনার পর আবেদন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ। সমস্ত রিপোর্ট বিস্তারিত পরীক্ষা করার পরেই শীর্ষ আদালত হরিশের ‘লাইফ সাপোর্ট’ (Life Support) খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক বলছেন আইনজীবী থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরাও।

আকাশছোঁয়া সাফল্য আর তীব্র সমালোচনার মাঝেই কর্মবিরতিতে বরুণ ধাওয়ান

২০১৩ সালে পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের (Punjab University) পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন হরিশ। তারপর থেকে আর জ্ঞান ফেরেনি। হৃদপিন্ডের স্পন্দন জানান দিচ্ছিল তিনি বেঁচে আছেন, কিন্তু মস্তিষ্ক কোনভাবেই বাহ্যিক কোনও সাড়া দিচ্ছিল না। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যুবক কোনভাবেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। এরপর হরিসের পরিবারের সদস্যরা ছেলের কষ্ট লাঘব করতে তার স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। এদিন ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার সময় সুপ্রিম বিচারপতিদের বেঞ্চ শেক্সপিয়ারের ‘টু বি অর নট টু বি’ লাইনটি উদ্ধৃত করেছে। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘দীর্ঘ ১৩ বছর তাঁরা পুত্রের পাশ থেকে সরেননি। প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি- দুই মেডিক্যাল বোর্ডই জানিয়েছে যে, এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম খাবার ও সকল চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করাই এখন হরিশের জন্য মঙ্গলের।’’ ভারতে অ্যাকটিভ ইউথেনাশিয়া (Active Euthanasia) সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ। তাহলে এই সিদ্ধান্ত কেন? আদালত সূত্রে জানা গেছে, হরিশের চিকিৎসার গতিপ্রকৃতি এবং রোগীর পক্ষে কোনটা ভালো না তা বিচার করে এই নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালে একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্মানের সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের এই স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি এক ঐতিহাসিক রায় বলে মনে করা হচ্ছে।

 

spot_img

Related articles

অপরাধীরা সবচেয়ে সুরক্ষিত বিজেপিতে! কয়লা মাফিয়ার বিজেপিতে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ায় তোপ শশী-পার্থর

বিজেপি অপরাধী-দুর্নীতিগ্রস্তদের আশ্রয়দাতা। ক্রিমিনালদের দলে নিয়েই দলভারী করছে বিজেপি (BJP)। কয়লা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত জয়দেব খাঁ-কে (Joydeb Kha)...

আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না: গান্ধীজিকে উদ্ধৃত করে রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি বোসের

বাংলার রাজ্যপাল পদে ইস্তাফা দিলেও রাজ্য ছেড়ে যেতে গিয়ে আবেগপ্রবণ সি ভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)।...

বিমান নেই, ছদ্মবেশে ট্রেনেই বাড়ি ফিরলেন বিশ্বকাপজয়ী শিবম! 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 Cricket World Cup)যখন যেভাবে দরকার তখন সেভাবে পারফর্ম করেছেন শিবম দুবে (Shivam Dube)। অথচ সিরিজের...

মেঘ কাটলেই বাড়বে গরম, রাতে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা কলকাতায়! হলুদ সতর্কতা উত্তরবঙ্গে 

সপ্তাহের তৃতীয় ব্যস্ততম দিনেও রাজ্যের দুর্যোগের পূর্বাভাস। বুধের সকালে মেঘলা আকাশ, রোদের দাপট কম থাকায় তীব্র গরম অনুভূত...