Thursday, March 12, 2026

পররাষ্ট্র নীতি এখন সার্কাস! কেন্দ্রকে তীব্র কটাক্ষ তৃণমূলের

Date:

Share post:

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! কেন্দ্রীয় সরকারের এটা নিয়ে সজাগ ছিল না? বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনাহীন কর্মকাণ্ড নিয়ে তোপ দাগলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) ও তৃণমূল (TMC) মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ (Tanmoy Ghosh)। তাঁদের কথায়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইজরায়েলে গিয়েছেন কিন্তু তারপরেও কি ঘটনা ঘটছে সেটা মনেও রাখতে পারেন নি, গুরুত্বও দিতে পারেন নি। গ্যাস যে হরবুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত হয় সেটা নিশ্চই প্রধানমন্ত্রী জানতেন! এটা কোন গোপন বিষয় নয় কিন্তু এই যে সরবরাহ বন্ধ হচ্ছে তার আগাম ব্যবস্থা নেওয়া কথা বলা হয়েছে? মজুত করা হয়েছে? দেশের রান্নাঘর, যেটা উজ্জ্বল করার জন্য কতরকম ব্যবস্থা, কিন্তু উজ্জ্বল আর হল ওঠায়? সবই অন্ধকারে আচ্ছন্ন। কিছুই বুঝি মনে পড়েনি।“

কেন্দ্রকে নিশানা করলেন চন্দ্রিমা। বলেন, “কোন পূর্ব পরিকল্পনা নেই। এমনকি দেখেছি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পরেও মানুষকে আশ্বস্ত করে গেছেন যে গ্যাসের কিছু হবেনা। সব ঠিক থাকবে। এদিকে আমরা কি দেখেছি বেঙ্গালুরু, মুম্বইতে হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে গেল, রেস্তোরাঁতে ডোমেস্টিক গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। আইনসঙ্গত না হলেও করছে। পুণেতে ১৮টি শ্মশান বন্ধ হয়ে গিয়েছে মানে মানুষের শেষকৃত্যও করা যাবে না। কেন? সরকার কেন্দ্রের এবং মাথায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিজি। চারদিকে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছেন। ঠিক এই জায়গায় ভাবুন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেটা কেন্দ্রের করার কথা সেটা মুখ্যমন্ত্রী করছেন, আধিকারিকদের নিয়ে সভা করেছেন। সবসময় তাদের কাছে সরবরাহ ঠিক রাখতে বলেছেন। হলদিয়া, কল্যাণী দুর্গাপুরে শোধনাগার আছে সেখান থেকে গ্যাস বাইরে না পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। আইসিডিএস স্কুলগুলিতে সরবরাহ ঠিক করতে বলা হয়েছে। স্কুলে বাচ্চাদের মিডডে মিল যেন বন্ধ না হয় সেটা দেখতে বলা হয়েছে। দায়িত্ব কেন্দ্রের কিন্তু করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।“

গ্যাস বুকিং নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দেগে চন্দ্রিমা বলেন, “গ্যাস বুক করবেন, বলল ২১ দিন পর গ্যাস পাবেন। সেটা রাতারাতি পাল্টে গেল। হয়ে গেল ২৫ দিন। মাঝে গ্যাস লাগলে কী হবে? একলাফে ২ থেকে ৬ লক্ষ চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। কেন? এই ধরণের সঙ্কট তৈরি হয়েছে তাই। মানুষ আতঙ্কিত কী খাবেন। গৃহস্থের ঘরে আগুন লাগানোর জন্য ৬০ টাকা বেড়ে গেল রাতারাতি। গ্যাসের দাম এখন ১০০০ টাকা।“ মন্ত্রীর অভিযোগ, “ভাবুন কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা বলে কিছু নেই। বলছে ইন্ডাকশন কিনতে কিন্তু সেটা দিয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের রান্না হবে না। হোটেল রেস্তোরাঁ চলবে না। ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি এখানে ব্যবহৃত হয় যার ৬২% আসে বাইরে থেকে। যে নীতি তৈরি করেছে সেটার কোনও ঠিক নেই। আমদানিই হচ্ছে না। ৬২ % আমদানি হয় সেটা বন্ধ অথচ গ্যাস উদপাদন করতে বলছে। আত্মনির্ভর তো দূরের কথা, নীতিরই ঠিক নেই। ‘এসমা’ চালু হয়েছে, কিন্তু সরবরাহ না হলে উৎপাদন হবে কী করে। নোটবন্দির সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কতজন মারা গিয়েছেন। লকডাউনে সকলকে এদিকওদিক দৌড় করিয়েছেন। এবার সার প্রক্রিয়া সকলে দেখেছেন। আবার মৃত্যু, লাইনে দাঁড়ানো। সরকার চালাচ্ছেন অথচ পরিকল্পনা নেই। একটা কমিটি গঠন করেছেন কিন্তু কবে কাজ হবে সেই কমিটির কথা মত? মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এটা বিকশিত ভারতের নমুনা? আমরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছি। আমার উত্তর চাই। এটা রাজনীতির কথা না, প্রতি ঘরে ঘরে এই প্রশ্ন উঠেছে। আমাদের দাবি এর সমাধান দিতে হবে। কতদিন চলবে সেটা জানাতে হবে। আমার যখন দিল্লি গিয়েছিলাম ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন ১৩টা ট্রেন দিচ্ছে উত্তরবঙ্গ থেকে লোক আসবে তাই। এটা কোন নীতি?“

এদিন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে মোদি সরকারকে নিশানা করে তন্ময় ঘোষ বলেন, “পররাষ্ট্র নীতিকে সার্কাসে নামিয়ে এনেছে মোদি সরকার। নিজের জমার রঙের সাথে অন্য রাষ্ট্রনায়কের জামার রং মিললে তাঁকে জড়িয়ে বোকা বোকা হাসলেই পররাষ্ট্র নীতি হয় না। এটি অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক ব্যাপার। সেখানে বার বার কেন্দ্র ব্যর্থ। কেন্দ্রের ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের নিতে কেন হবে? আমি ব্যক্তিগতভাবে ৩ দিন ধরে ফোন করে যাচ্ছি লাইন পাওয়া যাচ্ছে না। এই সরকার একটার পর একটা পরিকল্পনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়। এই সরকার মানববিরোধী সরকার, লাইনে দাঁড় করানো সরকার। আমি কয়েকটা ছবি দেখাচ্ছি, দেখুন। প্রথম হল নোটবন্দি। হঠাৎ রাতে বললেন সব কালো টাকা ফেরত আসবে। আসলে ৯৯% টাকা ফেরত এল। মানুষ লাইনে দাঁড়াল। করোনার সময় হঠাৎ করে লকডাউন, তবে সব দেশে সময় দেওয়া হয়েছে। এখানে দেওয়া হয়নি। পরিযায়ী শ্রমিকরা হেঁটে ফিরতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। শুধুমাত্র কেন্দ্রের অপদার্থতার জন্য এই অবস্থা। আবার সার এর সময় লাইনে দাঁড় করানো। বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি, আদর্শের জন্য প্রতিটি মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বহু মানুষের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। কোভিডকালে যখন সারা দেশে অক্সিজেন সঙ্কট তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নেমে এর সমাধান করেছেন। বলতে পারবেন না কোথাও রাজ্যে অক্সিজেন এর ঘাটতি হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশবিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, জামা পরিবর্তন করছেন, হাসাহাসি করছেন।“

তৃণমূলের (TMC) অভিযোগ, “অপদার্থ সরকার, তার দেশে থাকার অধিকার নেই। ২০১০ ক্রুড পেট্রোলিয়াম ৭৭ টাকা এখন হয়েছে ১০৯ আর গ্যাস ৩৪৫ টাকা, এখন হয়েছে ৯১৩। তিনগুণ বেড়েছে। সবথেকে বেশি ট্যাক্স নেয় ভারত সরকার। আমাদের বলা হচ্ছে তোমরা টাকা কমাও তাহলে আমাদের পাওনা টাকা আগে ফেরত দাও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ট্যাক্সের ওপর ট্যাক্স তার ওপর আবার ট্যাক্স। বাংলার মানুষ চিন্তা করবেন না। যতটা সাধ্যের মধ্যে আছে ততটা দিয়ে আমরা চেষ্টা করবো। মুখ্যমন্ত্রী একাধিক মিটিং করছেন। আমাদের সরকার মানুষের পাশে থাকবে। ডিএম, এসপিদের সবরকম ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পুরোটাই দৃশ্যকল্পের রাজনীতি করছেন নরেন্দ্র মোদি। উনি অপটিক্সের রাজনীতি করেন। সার্ভার নাকি ডাউন। কেমন সরকার চালাচ্ছেন যে জরুরি পরিষেবার সার্ভার ঠিক রাখতে পারছেন না। আপনি ইজরায়েলে গেলেন, ফিরে এলেন, আপনার জানা ছিল না যে যুদ্ধ ঘোষণা হবে? যদি জানা না থাকে তবে সেটা আপনার চরম ব্যর্থতা। আর জানা থাকলেও আপনি ব্যর্থ কারণ আপনি যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেননি। মোদিজি আজ পার্লামেন্টে এসে বিবৃতি দিক সবাই সেটাই চায়। মানুষ জবাব চাইছে এই অবস্থা কেন হল।“

spot_img

Related articles

যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতারি এড়াতে হাই কোর্টে শামিম, কী বললেন বিচারপতি

খোলসের আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে নিজেই আদালতের দ্বারস্থ বামপন্থী আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim)। এক জুনিয়র সহকর্মী আইনজীবীকে যৌন...

ভারতীয় জাহাজকে আদৌ কি ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান, প্রশ্ন জিইয়ে রাখলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে ভারতের জ্বালানি সংকট। ঠিক যখন বিরোধীরা এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে, তখন...

বস্তারে কোটি টাকার সোনা-নগদসহ ১০৮ মাওবাদীর আত্মসমর্পণ

আত্মসমর্পণ করলেন ১০৮ জন মাওবাদী! মাথার মিলিত দাম ছিল ৩ কোটি ৬১ লক্ষ, এছাড়া উদ্ধার হয়েছে এক কেজি...

বিহারে সরকারি চাকরির পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে কুকুরের ছবি

চূড়ান্ত গাফিলতির নিদর্শন! সরকারি চাকরি পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card) হাতে পেয়ে হতভম্ব বিহারের এক যুবকের। রীতেশ কুমার...