Friday, April 3, 2026

কৃষিখাতে উন্নয়নের খতিয়ান উল্লেখ করে কৃষক দিবসে শুভেচ্ছা পোস্ট মুখ্যমন্ত্রীর 

Date:

Share post:

কৃষক দিবস (Farmer’s Day) উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social media) শুভেচ্ছা পোস্ট বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ জমি আন্দোলনকে ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম (Nandigram)। তৎকালীন পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জনের। সেই কথা স্মরণ করে নিহতদের পরিবারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কৃষক দিবস (Farmer’s Day) পালনের কথা লিখেছেন মমতা। দীর্ঘ পোস্টে তিনি বাংলার সরকারের তরফে কৃষি খাতে কাজের খতিয়ানও উল্লেখ করেছেন।

মমতা লেখেন, ‘কৃষক দিবসে সকল আমার সকল কৃষক ভাইবোন ও তাঁদের পরিবারকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। নন্দীগ্রামে কৃষিজমি আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর এই দিনটিকে আমরা ‘কৃষক দিবস’ হিসেবে পালন করি। আমাদের কৃষকরা আমাদের গর্ব। তাঁরাই আমাদের অন্নদাতা। তাই তাঁদের প্রতিটি প্রয়োজনে আমরা তাঁদের পাশে থাকি। কৃষকবন্ধু (নতুন) প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি, শস্য বিমার যাবতীয় খরচ বহন করা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আর্থিক সহায়তা, কৃষকের অকাল মৃত্যুতে কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে কৃষক পেনশন প্রদান, ১৮৬টি ‘কিষাণ মান্ডি’ চালু করা থেকে শুরু করে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্র প্রদান – সবকিছুই আমরা করেছি।’ মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও লেখেন, ‘কৃষকবন্ধু (নতুন) প্রকল্পে কৃষক, বর্গাদার, ভাগচাষীরা এখন বছরে ১০০০০ টাকা করে পান। যার সামান্য জমিও আছে তিনিও ন্যূনতম ৪০০০ টাকা পান। এই টাকা দুই কিস্তিতে, খরিফ আর রবি মরশুমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০৫১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপকৃত হয়েছেন মোট ১.১৪ কোটিরও বেশি কৃষক, বর্গাদার ও ভাগচাষি।

এবার কৃষক, বর্গাদার এবং ভাগচাষিদের পাশাপাশি খেতমজুরদেরও বছরে দুই কিস্তিতে ৪,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মোট প্রায় ২৮ লক্ষ আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে গত ৮ই মার্চ থেকেই টাকা পাঠানো শুরু হয়ে গেছে। কৃষকবন্ধু (মৃত্যুজনিত সহায়তা) পেয়েছেন ১.৭০ লক্ষের বেশি কৃষক পরিবার। এই খাতে ৩৪১৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।বাংলা শস্য বিমা যোজনায় প্রিমিয়াম-এর পুরো খরচ দেয় রাজ্য সরকার। এখনো পর্যন্ত ১.১৫ কোটি কৃষক ৪০০৫ কোটি টাকার বেশি বাংলা শস্য বিমার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে এ পর্যন্ত ৬.০১ লক্ষেরও বেশি কৃষিযন্ত্র কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। খরচ হয়েছে ১৩২১ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া, সরকারি সাহায্যে ২৫২৫টি কৃষিযন্ত্রাদি ভাড়া কেন্দ্র করা হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন বাড়ছে যার সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা। ফসলের অভাবী বিক্রি বন্ধ করার জন্য রাজ্য সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় করছে। এই বছর ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনা হচ্ছে। এছাড়া, প্রয়োজন মত অন্যান্য ফসলের ন্যায্য মূল্যে ক্রয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’ এদিন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে আগামী দিনে কৃষকদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


এদিন আলু চাষীদের পাশে থাকারও বার্তা দিয়েছেন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলু প্রকল্প থেকে শুরু করে আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আলুর ক্ষেত্রে যে আন্তরাজ্য বাণিজ্যে বাংলার সরকারের উৎসাহ রয়েছে সেকথাও জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত না করে যদি আলু চাষিরা ভিন রাজ্যের রফতানি করতে চান তাতেও কোনও সমস্যা নেই। বাংলায় কৃষকদের স্বার্থে রাজ্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

 

Related articles

প্রবল ভূমিকম্প আফগানিস্তানে, কম্পন টের পেল কাশ্মীর

রাতের অন্ধকারে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান। একে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে (Afghanistan) প্রায় প্রতিদিন মৃত্যু মিছিল লেগে...

পূর্ব ভারতে প্রথম উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরায় পোষ্যদের কানের ভিতর পরীক্ষা AHPL-এ

পূর্ব ভারতে প্রথম পোষ্যদের জন্য সফলভাবে অ্যাডভান্সড ভিডিও অটোস্কোপি/অরাল এন্ডোস্কোপি চালু করেছে অ্যানিমেল হেলথ প্যাথলজি ল্যাব (AHPL)। একের...

মালদহে অশান্তির জের: সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যসচিব

মালদহে অশান্তির জেরে চক্রান্ত করে বাংলাকে বদনাম করার অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নতুন করে যাতে কোনও...

নির্বাচনী পদযাত্রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: শনিবার হাঁটবেন ইংরেজবাজারের পথে

রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি এলাকার ইস্যু ধরে মানুষকে সচেতন...