লাদাখের পরিবেশ আন্দোলন কর্মী সোনম ওয়াংচুকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারি আদৌ আইনসিদ্ধ কী? প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। বেগতিক দেখে এবার সোনমের গ্রেফতারি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। যে শান্তি প্রতিষ্ঠার যুক্তি দেখিয়ে সোনম ওয়াংচুকে (Sonam Wangchuk) দীর্ঘ ছয় মাস জেলে ঢুকিয়ে রেখেছে কেন্দ্রের স্বৈরাচারী বিজেপি সরকার, সেই যুক্তি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সামনে ধোপে টিকবে না বুঝতে পেরেই এবার আগে ভাগে গ্রেফতারি তুলে নেওয়ার পথে অমিত শাহর (Amit Shah) দফতর। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ মার্চ।

অজ্ঞাত কারণে লাদাখকে ষষ্ঠ তফশিলে (Sixth schedule) অন্তর্ভুক্ত না করা। দেশের সম্পদ লুট করে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া। অযথা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে লাদাখের উন্নয়নে বাধা দান। এইসব একাধিক দাবিকে কেন্দ্রের সঙ্গে প্রথমে আলোচনার দাবি জানান সোনম ওয়াংচু ও তাঁর অনুগামীরা। সেই লড়াইতে সামিল হয় লে অ্যাপেক্স বডি (Leh Apex Body) ও লে অ্যান্ড কার্গিল ডেমোক্রাটিক অ্য়ালায়েন্স। ২৪ সেপ্টেম্বর সেই আন্দোলন থেকে যুব সমাজের আন্দোলনকারীরা সরকার দফতর ঘিরে ফেললে তাঁদের উপর পুলিশের গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। ধামাচাপা দিতে দুদিনের মধ্যে গ্রেফতার করা হয় পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকে।

এরপর জেল থেকেই শুরু হয় সোনম ও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর (Gitanjali J Angmo) লড়াই। অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন গীতাঞ্জলি। এমনকি রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েও আবেদন করেন তিনি। যদি বিজেপি বিরোধী আবেদনে এখনও পর্যন্ত সোনম ওয়াংচুর জেল মুক্তি নিয়ে কোনও উত্তর দেননি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কেন্দ্রের সরকারের দাবি ছিল, লাদাখে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। সেই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সোনম ওয়াংচুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাও জাতীয় নিরাপত্তা আইনে। বারবার সোনম ও গীতাঞ্জলি সেখানেই সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, লাদাখে শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার জন্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে রাখাকে দায়ী করা হয়েছে।

এরপর সরাসরি গ্রেফতারির বিরুদ্ধে হিবিস কর্পাসে মামলা করেন গীতাঞ্জলি। প্রশ্ন তোলেন যে জাতীয় নিরাপত্তা আইন দেখিয়ে সোনম ওয়াংচুকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই ধারা আদৌ সোনমের জন্য লাগু হয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ১০ মার্চ সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টে উঠলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে তা নিয়ে কোনও উত্তর ছিল না। ফলে মামলার পরবর্তী দিন ১৭ মার্চ ধার্য করেন বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ। আর সেই মামলার শুনানির আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ঘোষণা করা হল, সোনম ওয়াংচুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি প্রত্যাহার করা হল।

আরও পড়ুন : কেন গ্রেফতার সোনম? কেন্দ্রকে সুপ্রিম-নোটিস

অমিত শাহর দফতরের তরফে যুক্তি দেখানো হয়েছে, সোনম ইতিমধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অর্ধেক সময় জেলে কাটিয়েছেন। তাঁকে লাদাখের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ২৬ সেপ্টেম্বর। যদিও সেই ঘোষণায় কোথাও দাবি করা হয়নি লাদাখে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে, না হয়নি। লাদাখের সমস্ত অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার বার্তা দেওয়া হয়েছে। শুধুই গ্রেফতারি প্রত্যাহার করে যে বার্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দিয়েছে, তাতেই স্পষ্ট হিবিস কর্পাস মামলা দায়ের হওয়াতেই পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে অমিত শাহর দফতর।



