বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গে ভোটপ্রচারে এসে ফের নাম-বিভ্রাটে জড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলার মনীষীদের নাম উচ্চারণে প্রধানমন্ত্রীর এই ভুলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। শনিবার দক্ষিণেশ্বরের আদলে তৈরি একটি সুবিশাল কাটআউটের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেওয়ার সময় লোকমাতা রানি রাসমণির নাম নিতে গিয়ে তিনি উচ্চারণ করেন ‘রানি রসমণি’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আক্রমণের ধার বাড়ানো হয়েছে।

ব্রিগেডের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। ‘জয় মা কালী’ কিংবা ‘জয় মা দুর্গা’ ধ্বনি দিয়ে বাঙালি আবেগ স্পর্শ করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের স্মৃতিধন্য দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ওই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রানি রাসমণির নাম ভুলভাবে উচ্চারণ করায় বিড়ম্বনায় পড়ে গেরুয়া শিবির। বিরোধীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এই ধরনের ভুল অনভিপ্রেত এবং বাঙালির ভাবাবেগে আঘাতের সমান।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অফিশিয়াল সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেল থেকে ওই ভিডিওটি শেয়ার করে জানানো হয়েছে, যে নেত্রী বাঙালির হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনে আসীন, তাঁর নাম পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী জানেন না। তৃণমূলের কটাক্ষ, এই ধরনের অজ্ঞতা কেবল হাস্যকর নয়, বরং অপমানজনক। শাসকদলের তরফে পাল্টা প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যাঁরা বাংলার আইকনদের নামটুকু শুদ্ধভাবে বলতে পারেন না, তাঁরা কোন মুখে বাংলার আত্মা রক্ষার কথা বলেন?

এর আগে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি কিংবা স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে নিয়ে করা তাঁর পুরনো মন্তব্যগুলোকেও এদিন মনে করিয়ে দিয়েছেন বিরোধীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলার সংস্কৃতি এবং ইতিহাস নিয়ে ন্যূনতম পড়াশোনা না করেই কেবল ভোটের স্বার্থে বক্তৃতা দিতে আসছেন। এই ‘উচ্চারণ-বিভ্রাট’ আসলে বাংলার প্রতি তাঁদের উদাসীনতারই প্রতিফলন বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের।

আরও পড়ুন- বিনা পয়সায় অভিনয়, ১৮ বছর পর হাতে এল চেক! অবাক গল্প শোনালেন অনিল কাপুর

_

_

_

_

_


