“মুখে বলছে না, কাজকর্ম বলে দিচ্ছে, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনই জারি করেছে। অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে। এটা লজ্জা। বিজেপির এবারের চক্রান্ত সব চক্রান্তকে ছাপিয়ে গিয়েছে“- শুক্রবার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে তোপ দাগলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্রকে পাশে নিয়ে শুক্রবার কালীঘাট থেকে ইস্তেহার প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর সেখানেই বিজেপি (BJP) ও নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) এক বন্ধনীতে রেখে নিশানা করেন মমতা।

তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “বাংলা ওদের অনেকদিনের টার্গেট। বাংলার অস্মিতা থাক ওরা চায় না। বাংলার মেধা চায় না ওরা।“ রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরেই একাধিক আইপিএস ও আইএএস আধিকারিকদের বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অবসার্ভার হিসেবে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ বলে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত অনেক লক্ষ্য করেছি। কিন্তু এবারের চক্রান্ত সমস্ত চক্রান্তকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখানে অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে। লজ্জা! রাষ্ট্রপতি শাসন করে মোদীজিকে ভোট করাতে হচ্ছে? বাংলার মানুষকে এত ভয়। আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS) যখন দায়িত্ব নেয়, তখন তাঁদের দায়িত্ব থাকে। এক একটা রাজ্যের ক্যাডার হয়। তাঁরা সেই রাজ্যের কাজ করেন। বাংলার অফিসারদের তুলে নিয়ে গেলে এখানকার মানুষদের দেখবে কে? প্রতিবার যখন পর্যবেক্ষক চায়, আমরা দিই। এবার এই রাজ্যেই নির্বাচন। ভিন্রাজ্যের মানুষ কি বাংলাকে চেনে? এখানেকার মানুষকে চেনে না, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি, বুথ, সাবডিভিশন কিছু চেনে না। এখানকার উৎসব চেনে না। কে দেখবে এসব? এর পর কোনও ঘটনা ঘটলে দায়ী থাকবে বিজেপি সরকার। কমিশন বিজেপির তোতাপাখি।“

মোদি সরকারকে তোপ দেগে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “এত কিছু করেও বাংলার মানুষকে দমানো যাবে না। আঘাত করলে প্রত্যাঘাত হবে। তাই বলি, বাংলা বাঁচাতে হলে বিজেপিকে শিক্ষা দিন। আইনকেই বেলাইন করে দিয়েছে মোদি সরকার। সব অফিসারকে বদলে দিয়ে ভিনরাজ্যের লোক আনছে। তাঁরা বাংলায় উৎসব, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি, বুথ, সাবডিভিশন কিছু চেনেন না। একের পর এক আধিকারিককে বদলে দিচ্ছে। বাংলাকে কি ভিনরাজ্যের লোক চেনেন? বাংলার সব অফিসারদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে, অঘোষিত নয় এটা ঘোষিত এমার্জেন্সি, রাষ্ট্রপতি শাসন! এভাবে মোদীজিকে বাংলায় ভোট করাতে হচ্ছে। বাংলা যদি বাঁচাতে হয়, সব মানুষ এক সঙ্গে থাকতে হলে, শান্তি, সম্প্রীতি রক্ষা করতে হলে বিজেপিকে এমন শিক্ষা দিন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি ভয় দেখালে শুনবেন না। টাকার প্রলোভনে পা দেবেন না। আইএএস, আইপিএস-দের বদলেছে, বর্ডার থেকে টাকা ঢোকাবে বলে, বন্দুক, মাফিয়া টাকা ঢোকাচ্ছে। হিংসা করার চক্রান্ত করছে।“
আরও খবর: দুয়ারে চিকিৎসা, আরও জেলা-পুরসভা: ’১০ প্রতিজ্ঞা’ প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি মমতার

তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, “এই দেশে এখন আইন, সংবিধান কিছুই নেই। মানুষ কার কাছে বিচার পাবে? বিচারের জায়গাগুলি কিনে নিয়েছে। হয় জুজুর ভয়ে, নয় লোভ! এই দুটো জিনিস দেশে কাজ করছে। মোদির হাত থেকে দেশ উদ্ধার করা আমাদের প্রায়োরিটি। বাংলার ভোটে লড়ছি, লড়ব। আমি এখনও মনে করি তৃণমূল কর্মীরা ভোটের সময়ে আমাদের যোদ্ধা। চার মাস বিএলএ-রা কী ভাবে কাজ করেছেন, দেখেছেন, তাঁরা আমাদের সম্পদ। তৃণমূলকে সমর্থন করে জোটবদ্ধ হোন। অন্য দিকে তাকানোর সময় নেই।“

–

–

–

–

–

–
