Sunday, May 31, 2026

শাহি-ভোজ করিয়েও ব্রাত্য শালবনীর আদিবাসী পরিবার

Date:

Share post:

একসময় জঙ্গলমহলে শালবনী ব্লকের যে আদিবাসী বাড়িতে ভূরিভোজ সেরে “আব কি বার, দো’শো পার” স্লোগান তুলেছিলেন অমিত শাহ-সহ বিজেপির নেতারা (BJP Leaders)। পরে সেই পরিবারের আর খোঁজটুকু নেননি বিজেপির নেতারা। গত পাঁচ বছরে পাশে এসে দাঁড়াননি একজন নেতাও। বরং সেই পরিবারকে তৃণমূল শাসিত পঞ্চায়েত বাড়ি দিলেও, তার কৃতিত্ব নিয়েছে বিজেপি নেতারা।

২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর। সকাল থেকেই শালবনী ব্লকের (Jangalmahal Salboni) বালিজুড়ি এলাকায় ঝুনু সিং-এর বাড়িতে ছিল সাজোসাজো রব। সেইদিন ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৮টা বাজতেই রান্নার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। আয়োজনের মূল দায়িত্বে ছিলেন ঝুনু সিং-এর স্ত্রী ঝামুনা সিং। সেদিনের মেনুতে ছিল স্যালাড, ভাত, রুটি, ডাল, শুক্তো, পোস্ত দিয়ে শাক ভাজা থেকে গুড়ের রসগোল্লা-সহ নানা ব্যঞ্জন। আর হবে নাই বা কেন! বাড়িতে বিজেপির নম্বর-টু মধ্যাহ্নভোজ সারবেন বলে কথা। সেই দিন মাটির বাড়িতে ঘরের দেওয়াল সাজানো হয় সাবেকি আলপনা দিয়ে। বাংলায় লেখা ‘স্বাগতম’। এছাড়াও তৃণমূল শাসিত গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে দেওয়া সরকারি বাড়ির দেওয়ালেও বিজেপির নেতারা বড় হরফে লেখা দিয়েছিলেন ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’।

পরিবারের দাবি, করোনা পরিস্থিতি থাকায় গোটা বাড়ি স্যানিটাইজ করা হয়েছিল। আশেপাশের গ্রাম থেকে এসে মানুষ যাতে ভিড় জমাতে না পারেন, তাই গোটা গ্রাম নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়। বেলা দু’টো নাগাদ শাঁখ বাজিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন বাড়ির মহিলারা। অমিত শাহের সাথে ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গী, দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায় সহ হেভিওয়েট বিজেপি নেতারা। বাড়িতে প্রবেশ করে খাটিয়ায় বসে খানিক বিশ্রাম নেন নম্বর-টু। তারপর চলে মধ্যাহ্নভোজ। আর তা দেখে আনন্দে আত্মহারা হয় গোটা পরিবার।

ঝুনু সিং-এর বাড়ি কর্ণগড়ে। তবে বালিজুড়ি এলাকায় তিনি শাশুড়ি রাইমণি সিং-এর বাড়িতেই থাকেন। ছেলে সনাতন সিং দিনমজুরের কাজ করেন। এদিন সেই আদিবাসী বাড়ির উঠোনে মুখ শুকনো করে বসেছিলেন ঝুনু সিং। পাশেই পড়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে সেই খাটিয়া। করুণ সুরে তিনি বলেন, “কেউ আর খোঁজ রাখেনি। পাশে এসেও দাঁড়ায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাড়িতে এসেছেন, খেয়েছেন। এটাই একমাত্র প্রাপ্তি। তিনি আরও বলেন, ব্রিগেডেও যাই নি। অনেক সময় অনেকে মিটিং-মিছিলে যাওয়ার জন্য ডাকে। যাই না। খেটে খেতে হবে যে। সরকারি প্রকল্পে রেশন পাই, স্ত্রী লক্ষীর ভাণ্ডার পান। এটা বুঝেছি, পেটের ভাত নিজেকেই জোগাড় করে নিতে হবে।”

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক তরজা চরমে। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা মেদিনীপুরের প্রার্থী সুজয় হাজরা বলেন, বিজেপির মুখ আর মুখোশ একদম আলাদা। সাধারণ মানুষের পাশে একমাত্র তৃণমূল আছে, থাকবেও।

Related articles

পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথের আগে বড় খবর: তাপস-অর্জুন-পূর্ণিমা পেলেন মন্ত্রিত্বের ফোন 

নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের ঠিক আগের দিনই প্রত্যাশামতোই শুরু হয়ে গেল ফোন যাওয়ার পালা। মন্ত্রী হওয়ার সবুজ...

সোমে বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন-শপথ: জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের নয়া বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হতে চলেছে। সোমবার লোকভবনে শপথ নেবেন ৩৫ জন মন্ত্রী। রবিবার, নিজের...

এবার মদন মিত্রের কামারহাটির বাড়িতে হানা পুলিশের, কিন্তু কেন?

এবার তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একটি বাড়িতে অতর্কিতে হানা দিল ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের একটি বড় দল। তবে পুলিশ...

পিছিয়ে থেকেও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, সিঙ্গাপুর ওপেন জিতলেন সাত্ত্বিক-চিরাগ জুটি

২ বছরের অপেক্ষার অবসান। সিঙ্গাপুর ওপেন(Singapore Open) ব্যাটমিন্টন খেতাব জিতলেন সাত্ত্বিকসাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি এবং চিরাগ শেট্টি (Satwiksairaj Rankireddy and...