বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দেশের শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে আস্থা না রেখেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল দেশের প্রধান বিচারপতিকে (Chief Justice of India)। সেই পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তে কেন্দ্রের সরকারের সিদ্ধান্তে প্রধান বিচারপতির চেয়ারকে অপমানিত করা হয়েছে এমন অভিযোগও উঠেছিল। সেই রেশ ধরেই এবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant)।

২০২৩ সালের নতুন আইন অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি (President of India)। তবে তাঁকে নাম নির্বাচন করে দেন তিন সদস্যের কমিটি। সেই কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister), দেশের কোনও এক মন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা। সেই আইনকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) একাধিক মামলা দায়ের হয়। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু প্রথম শুনানির দিনই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।

মামলা থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে প্রধান বিচারপতি (CJI Surya Kant) যে পর্যবেক্ষণ জানান, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, এই মামলার বিচারপতি হিসাবে তিনি থাকলে কেউ তাঁর স্বার্থ জড়িত (conflict of interest) রয়েছে বলে অভিযোগ করতে পারেন। এর আগে ২০২৩ সালে আইন তৈরি হওয়ায় নিয়োগ মামলা যখন সুপ্রিম কোর্টে উত্থাপিত হয় তখনও শীর্ষ আদালত তিন সদস্যের কমিটি তৈরি করেছিল। তাঁর সদস্যরা ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও দেশের প্রধান বিচারপতি। অথচ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আইন তৈরির সময় বিচার ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্বকে সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলে সেখানে সংসদীয় প্রতিনিধি এমনভাবে নির্বাচন করে যেখানে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলই প্রাধান্য পাবে। কেন্দ্রের সরকারের এভাবে বিচার ব্যবস্থাকে সরিয়ে রেখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সদস্য করায় এবার প্রধান বিচারপতি নিজেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন।

আরও পড়ুন : বাংলার নির্বাচনে প্রথম দফার জন্যেই ১৯২০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন

শুক্রবার এই মামলা ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে। সেখান থেকেই প্রধান বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, এমন কোনও বেঞ্চে এই মামলা রাখা হবে না, যেখানে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি (future CJI) হতে পারেন এমন কোনও বিচারপতি রয়েছেন। ফলে কেউই কিছু বলতে পারবে না। এপ্রসঙ্গে যে তিনি আগেই ভাবনাচিন্তা করে রেখেছেন, তেমনটাও জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

–

–

–

–

–

