জয়িতা মৌলিক
LPG-র সংকটের জেরে জের বাংলার সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে তীব্র সমস্যায় হোটেল- রেস্তোরাঁগুলি (Hotel-Restaurant)। কিছু জায়গায় কাঠ-কয়লায় রান্না হলেও, অনেক জায়গায় সেই সুযোগ না থাকায় বন্ধ হচ্ছে কলকাতার নামী-দামী খাবারের দোকান-রেস্তোরাঁ। নিউ মার্কেটের শতাব্দী প্রাচীন নাহুমসের পরে বন্ধ হল হাতিবাগানের নব মালঞ্চ। নোটিশ সেঁটে ঝাঁপ ফেলতে হয়েছে তাদের।

চপ-কাটলেটের জন্য বিখ্যাত উত্তর কলকাতার হাতিবাগান অঞ্চল। সেখানে দীর্ঘ বছর ধরে চলছে বিভিন্ন ইটারি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম ‘নব মালঞ্চ’। বহুদিন আগে মালঞ্চ রেস্তোরাঁ ভাগ হয়ে অরবিন্দ সরণির উপর তৈরি হয় এই রেস্তোরাঁ। শুরু থেকেই ভোজনরসিকদের রসনা তৃপ্তি করছে নব মালঞ্চ। ছুটির দিন বা উৎসবে রীতিমতো লাইন পড়ত রেস্তোরাঁর বাইরে। কিন্তু গ্যাসের সমস্যায় ঝাঁপ বন্ধ। শাটারে নোটিশ (Notice) সাঁটা, গ্যাস না পাওয়ায় সাময়িক বন্ধ করতে হয়েছে রেস্তোরাঁ। 

নব মালঞ্চ-এর কর্ণধার বাদল ঘোষ জানালেন, রান্নার গ্যাস (LPG) না পাওয়ায় গত ১০দিন ধরে তাঁদের রেস্তরাঁ বন্ধ রাখতে হয়েছে। যেহেতু তিনি ওই বাড়িটির মালিক নয়, ফলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাঠ-কয়লায় রান্না করতে পারছেন না- যেটা তাঁর আশপাশের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট করতে পারছে। 

কর্মচারীদের কী অবস্থা? বাদল ঘোষ জানালেন, তিনি কর্মীদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে, তবে, তাঁদের পারিশ্রমিক তাঁকে দিতে হচ্ছে। কিন্তু আয়ের রাস্তা বন্ধ। আর এই পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি, তাও জানেন না তিনি। তবে, নব মালঞ্চ-এর কর্ণধার জানাচ্ছেন, গ্যাসের সমস্যা মিটলেই তিনি আবার রেস্তোরাঁ খুলবেন।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে বন্ধ হয়েছে টান পড়েছে রান্নার গ্যাসে। যার জেরে বন্ধ হয়েছে কলকাতার একাধিক রেস্তোরাঁর বিভিন্ন পদ। এর আগে গ্যাস সঙ্কটের জেরে বন্ধ হল নিউ মার্কেটের ১২০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী নাহুম অ্যান্ড সন্স (Nahoum and Sons)। দোকানের বাইরে একটি নোটিশে তারাও জানিয়েছে, ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’র (Unavoidable Circumstances) জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে দোকান। মিড-ডে মিল থেকে মন্দিরের ভোগ- সব জায়গাতেই থাবা বসিয়েছে গ্যাস সঙ্কট। এর থেকে কবে রেহাই মিলবে, তার দিশা নেই কেন্দ্রের কাছে।

–

–

–

–

–
