ক্যালেন্ডারের পাতায় ঠিক একমাস বাকি। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন। আর তার ঠিক ত্রিশ দিন আগে থেকে বাংলায় নির্বাচনী প্রচারের পারদ তুঙ্গে তুলতে রণকৌশল সাজিয়ে ফেলল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে হাই-ভোল্টেজ প্রচার শুরু করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ও দক্ষিণ— দুই প্রান্ত থেকেই কাল বিউগল বাজাতে চলেছে ঘাসফুল শিবির।

দলীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের চালসা থেকে নিজের প্রচার অভিযান শুরু করবেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, একই দিনে দক্ষিণবঙ্গের পাথরপ্রতিমায় জনসভা করে ভোটযুদ্ধের সুর বেঁধে দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ও দক্ষিণে দলের দুই শীর্ষ নেতার এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ— রাজ্যের ২৯১টি বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই দেওয়াল লিখন, ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেন এবং কর্মিসভার মাধ্যমে ময়দান গরম করে রেখেছেন। এবার মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেকের সভার মাধ্যমে সেই প্রচারে বাড়তি অক্সিজেন পেতে চাইছে দল।

এবারের নির্বাচনে প্রচারের মূল হাতিয়ার হিসেবে উঠে আসছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিতর্ক। মাস চারেক আগে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তাকে বিজেপির চক্রান্ত বলে বারবার সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছেন তিনি। বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই কালকের জনসভাগুলিতেও প্রধান ইস্যু হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে লিফলেট বিলি এবং স্ট্রিট কর্নারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ইস্যুগুলিকে মানুষের সামনে তুলে ধরছে তৃণমূল। তবে মঙ্গলবার চালসা ও পাথরপ্রতিমার মঞ্চ থেকে মমতা এবং অভিষেক ঠিক কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

আরও পড়ুন- আরজি কর লিফট-মৃত্যু কাণ্ডে এবার জনস্বার্থ মামলা হাই কোর্টে

_

_
_

_
_

_
_

