সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও স্পষ্ট তথ্য দিতে পারল না নির্বাচন কমিশন। সার্ভার সমস্যার কথা উল্লেখ করা হলেও, ঠিক কতজন ভোটারের নাম সংযোজন বা বিয়োজন হয়েছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব সামনে আনতে পারেনি কমিশন। ফলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রায় ২৯ লক্ষ ভোটারের নাম ‘ডিসপোজড’ হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত সেই সংখ্যাই প্রায় ৩০ লক্ষ বলে উল্লেখ করেন। এই সংখ্যাগত অসঙ্গতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কোন বিধানসভায় কতজন ভোটারের নাম সংযোজন বা বাদ পড়েছে, সেই বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, যাঁদের ভোটাধিকারকে কেন্দ্র করে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া, তাঁদের তথ্য নিয়েই যদি স্পষ্টতা না থাকে, তবে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন কীভাবে নিশ্চিত হবে। প্রশাসনিক বদলি, কড়া নজরদারি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন—এসবের পাশাপাশি ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। হিংসামুক্ত ও প্রভাবমুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে আন্তঃরাজ্য সমন্বয় বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে, যেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ অন্যান্য কমিশনার ও বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা, অবৈধ নগদ, মাদক ও অস্ত্র আটক এবং আন্তঃরাজ্য চেকপোস্টে নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সীমান্ত সিল করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে সতর্ক থেকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন- বিজেপি নেত্রীর স্বামীকে বাংলার পর্যবেক্ষক! ‘শাহি সংবাদ’ কটাক্ষ তৃণমূলের

_

_
_

_
_

