Tuesday, June 16, 2026

ভোটে গাড়ি চাওয়া: আইন মেনেই কাজ ট্রাফিক পুলিশের, স্যোশাল মিডিয়ায় হাওয়া গরম করার চেষ্টা অরিত্রর

Date:

Share post:

ভোটের জন্য গাড়ি চাওয়া নিয়ে নেট মাধ্যমে হাওয়া গরম করার চেষ্টা অরিত্র দত্ত বণিকের (Aritra Dutta Banik)। একতরফা আইনি যুক্তি দেখিয়ে পুলিশের (Police) বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন অভিনেতা তথা নেট প্রভাবি। এমনকী, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর সঙ্গেও বচসায় জড়ান তিনি। সেই ঘটনার ভিডিও তুলে স্যোশাল মিডিয়ায় (Social Media) পোস্ট করে ভিউ বাড়িয়েছেন অরিত্র। কিন্তু আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়িও রিক্যুশিজন করে নিয়ে পারে প্রশাসন। এখানে কোনও বেআইনি কাজ হয়নি।

অরিত্র দত্ত বণিক (Aritra Dutta Banik) জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে শুটিংয়ের কাজে  সোদপুর থেকে গড়িয়ায় যাচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই ডানলপ রথতলা মোড়ে তাঁর গাড়িয়ে থামিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর গাড়ি (Car) চেয়ে রিক্যুশিজন স্লিপ ধরিয়ে দেন কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ। পাল্টা যুক্তি দেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “​কলকাতা উচ্চ আদালতের রায় (২০০৬) অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ি কোনওভাবেই ‘ট্রান্সপোর্ট ভেহিকেল’ নয়। মোটর ভেহিকেল অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়ার কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তাই নির্বাচনের কাজের জন্য আপনার ব্যক্তিগত গাড়ি নেওয়া আইনের পরিপন্থী। ​সেকশন ১৬০ (২) আরপি অ্যাক্ট অনুযায়ী, গাড়ি নেওয়ার আগে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা নির্বাচন আধিকারিককে একটি লিখিত নির্দেশ আপনার নামে বা আপনার ঠিকানায় পাঠাতে হবে। রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মুখে বলে বা ট্রাফিক পুলিশ চাইলেই গাড়ি নিয়ে নিতে পারে না। ​Rule 98 (আদর্শ আচরণবিধি) অনুযায়ী, রিক্যুইজিশন অর্ডার আপনার বাড়িতে বা কর্মস্থলে রেজিস্টার্ড পোস্টের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছে দিতে হবে।“​

কিন্তু সত্যিই কি তাই? আইন কিন্তু অন্য কথা বলছে। আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি সরকারি বা নির্বাচনে কাজের জন্য নিতে পারে প্রশাসন। এক আধিকারিক জানান, সাধারণত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা নির্বাচন আধিকারিক দরপত্রের মাধ্যমে যান নেন। কিন্তু ‘ওসি-ইলেকশন’-এর মাধ্যমেও নাকা চেকপোস্টে আরটিও-র সহায়তায় সরাসরি গাড়ি অধিগ্রহণ করা যায়। যদি এইভাবে কোনও ব্যক্তিগত গাড়ি নেওয়া হলে জেলা নির্বাচন আধিকারিক বা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন করতে পারেন ওই ব্যক্তি। ‘সুবিধা’ অ্যাপের মাধ্যমেও আবেদন জানানো যায়।

সুতরাং নিজের ভিডিওর ভিউ বাড়াতে যতই “সতর্ক হোন এসব গুন্ডামি প্রতিরোধ করুন” বলে হাওয়া গরম করার চেষ্টা করুন অভিনেতা, আসলে পুলিশ আইন মেনেই কাজ করেছে।

Related articles

কলেজে তোলাবাজি রুখতে ‘স্যাঁটা গরম’ করার হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর! কোথা থেকে এলো এই শব্দ?

কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও টাকার খেলা রুখতে প্রকাশ্যেই ‘স্যাঁটা গরম’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ...

ত্রাণের আড়ালে আপত্তিকর সামগ্রী? অনন্যার কার্যালয় ভাঙচুর করে চক্রান্তের অভিযোগ বিজেপির

১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয় ঘিরে বিতর্ক। কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি আদৌ সাধারণ মানুষের কাজের জন্য নাকি অন্য কোনও...

পশ্চিমবঙ্গ দিবসে স্কুলগুলোকে ছবি পাঠানোর ফতোয়া, নজরদারির অভিযোগে সরব শিক্ষক মহল

শিক্ষাঙ্গনে এবার নয়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হলো জোর বিতর্ক। রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে...

নিয়োগ মামলা: ইডি দফতরে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্তে সহযোগিতার বার্তা অভিষেকের

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সল্টলেকের সিজিও...