Tuesday, June 16, 2026

জেলা নিয়ে বৈঠকে সভাপতি নীতীন নবীন, সেই জেলার বিজেপি কর্মীরা কলকাতায় বিক্ষোভে!

Date:

Share post:

রাজনৈতিক দ্বিচারিতা করতে গিয়ে বঙ্গ বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত রাজনৈতিক সার্কাসে পরিণত হয়েছে। গোটা বাংলা জয় করে ফেলবে – এমন ঘোষণা করে যখন রাজ্যে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করতে যাচ্ছিলেন বিজেপির দিল্লির নেতারা, তখন বাধ সাধলেন খোদ রাজ্যের বিজেপি কর্মীরাই। প্রার্থী বিক্ষোভে বিজেপি অমিত শাহ (Amit Shah), নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) মতো নেতাদের ভোট প্রচারের দিন আর স্থানই ঠিক করতে পারছেন না বঙ্গ বিজেপি (Bengal BJP)। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাজ্যে সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন (Nitin Nabin)। কিন্তু তিনিও থামাতে পারলেন না কর্মী বিক্ষোভ।

কখনও উত্তর চব্বিশ পরগণা, কখনও দক্ষিণ, আবার নদিয়া, হাওড়া, হুগলিও বাদ পড়েনি কলকাতার বিজেপি সদর দফতরে এসে বিক্ষোভ দেখানোয়। টানা চার-পাঁচ দিন ধরে যেন এটাই রুটিন হয়ে গিয়েছে বিজেপির সল্টলেক দফতরের (BJP party office)। মঙ্গলবারও তার ব্যতিক্রম হল না। এদিন হুগলির বলাগড়ের (Balagarh) বিজেপি কর্মীরা প্রার্থী সুমনা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

তবে মঙ্গলবার দিনটা আগের বিক্ষোভের দিনগুলির থেকে অন্য রকম। কারণ এদিন শহরে উপস্থিত সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। বঙ্গ বিজেপিতে প্রার্থী বিক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খোদ সর্বভারতীয় সভাপতিকে ছুটে আসতে হয়েছে বাংলায়। যদিও সল্টলেকের দফতরে বিক্ষোভ চললেও তিনি সেখানে যাননি। তিনি তাঁর কাজ সেরেছেন নিউটাউনের অভিজাত হোটেলেই।

আশ্চর্যজনকভাবে সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন (Nitin Nabin) মঙ্গলবার বিলাশবহুল হোটেলে বৈঠক করেন হাওড়া ও হুগলির দলীয় কর্মীদের সঙ্গে। আর সেই হুগলির বলাগড়ের (Balagarh) কর্মীরাই সেই একই সময়ে সল্টলেকের অফিসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বিজেপির নিচুস্তরের কর্মীদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্ব কতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে, মঙ্গলবার যেন আবার তারই প্রমাণ মিলল।

আরও পড়ুন : রেখা পাত্রকে প্রার্থী মানেন না: জেলা বিজেপির বিক্ষোভ কলকাতায়

এরপরেও বিজেপি গোটা রাজ্যে জনসংযোগ তৈরি করে বাংলা দখলের দিবাস্বপ্ন দেখছে। আর সেই লক্ষ্যে তাঁদের সবথেকে বড় অস্ত্র আইটি সেল। মঙ্গল ও বুধবার দুদিনের বঙ্গ সফরে নীতীন নবীন একাধিক বৈঠক করবেন আইটি সেলের (IT cell) সঙ্গেই। যদিও সেই সূচিতে বাধ সেধেছে দলীয় কর্মীরাই। যার ফলে আইটি সেলের কর্মী ও নদিয়া জেলা কমিটির সঙ্গে বৈঠকের বাইরে গিয়েও অন্য জেলার সঙ্গে বৈঠক করতে বাধ্য হচ্ছেন সর্বভারতীয় সভাপতি। এরপরেও মঙ্গলবার পর্যন্ত বিজেপি তাদের সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে ব্যর্থ।

Related articles

ত্রাণের আড়ালে আপত্তিকর সামগ্রী? অনন্যার কার্যালয় ভাঙচুর করে চক্রান্তের অভিযোগ বিজেপির

১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয় ঘিরে বিতর্ক। কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি আদৌ সাধারণ মানুষের কাজের জন্য নাকি অন্য কোনও...

পশ্চিমবঙ্গ দিবসে স্কুলগুলোকে ছবি পাঠানোর ফতোয়া, নজরদারির অভিযোগে সরব শিক্ষক মহল

শিক্ষাঙ্গনে এবার নয়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হলো জোর বিতর্ক। রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে...

নিয়োগ মামলা: ইডি দফতরে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্তে সহযোগিতার বার্তা অভিষেকের

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সল্টলেকের সিজিও...

নারী-বিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ! কল্যাণের বরখাস্ত চেয়ে স্পিকারকে চিঠি কাকলির

লোকসভার অন্দরেই এবার সরাসরি সংঘাতে জড়ালেন দুই বর্ষীয়ান সাংসদ। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নারী-বিরোধী মন্তব্য ও...