ভোট ঘোষণার পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞানেশ কুমারের স্বেচ্ছাচারিতা শুরু। আমলা থেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের পর রাতারাতি ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন (ECI) । এই তালিকায় রয়েছে হাই ভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্রও (Bhawanipur Assembly )। এখানে রিটার্নিং অফিসার (Bhawanipur RO) হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Subhendu Adhikari) ঘনিষ্ঠ সুরজিৎ রায়কে (Surajit Roy) পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট RO বিরোধী দলনেতার হয়ে কাজ করেন বলে জানা গেছে। পক্ষপাত দুষ্ট অফিসারকে কেন ভোটের ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে নিয়ে আসা হলো সে প্রশ্ন তুলে কমিশনে অভিযোগ দায়ের করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।


ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নির্বাচনে লড়াই করছেন। এবারও ওই কেন্দ্রে তিনিই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। এবার সেখানে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অবশ্য নন্দীগ্রামেও (Nandigram ) প্রার্থী হয়েছেন। অভিযুক্ত রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায় এর আগের ভোটে শুভেন্দুর নির্দেশে কাজ করেছেন। তাঁকে তড়িঘড়ি ভবানীপুরে নিয়ে আসার পর থেকেই শোরগোল পড়ে গেছে। তাহলে কি ভোট পরিচালনার জন্যই এই বদলি? ভোটের সময় সুবিধা করতে মরিয়া বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে? তৃণমূল অভিযোগপত্রে জানিয়েছে, এই সুরজিৎ রায় আগে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি যে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ একথা সকলেই জানেন। বিরোধী দলনেতার যে কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন সেখানে ওই অফিসারের পোস্টিং হওয়ায় রায়ের পক্ষপাতহীনতা ও স্বাধীনতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এছাড়াও, তাঁর বর্তমান পদ (Additional Director of Land Records) তাঁর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


সাধারণত সব বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের সময় একজন করে রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে থাকেন। প্রার্থীদের নমিনেশন গ্রহণ থেকে নির্বাচনের সময় প্রাথমিক দায়িত্বভার এই অফিসারদের উপরই থাকে। তাই এই পদে দায়িত্বশীলদের উপর পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার অভিযোগ থাকলে ভোট পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে ভোটারদের মনে প্রশ্ন উঠবে বলে দাবি রাজ্যের শাসকদলের।

