বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের ধারা অব্যাহত রাখল নির্বাচন কমিশন। গত সোমবার ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে (RO) সরানোর পর বৃহস্পতিবার আরও ১৪ জনকে বদলির নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। ফলে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে এই মুহূর্তে মোট ৮৭টি আসনেই নতুন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হলো। কমিশনের নয়া তালিকা অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি, ভরতপুর, বাদুড়িয়া, যাদবপুর, জগৎবল্লভপুর, পুরশুরা, ময়না, নন্দকুমার, হলদিয়া, কাঁথি দক্ষিণ, এগরা, খড়্গপুর, দাসপুর এবং সোনামুখী কেন্দ্রে নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

১৪ জনকে বদলির পাশাপাশি ৯টি শূন্যপদে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগেরও নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে IAS রবি কুমারকে আরামবাগের মুহকুমাশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে ২০০-আরামবাগ কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। সব অফিসারকে শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে নিজের কেন্দ্রে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

ভোট ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক শীর্ষ স্তরের আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে কমিশনের এই সক্রিয়তা বেনজির বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর আগে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মিনাকে সরিয়ে যথাক্রমে দুষ্মন্ত নারিয়ালা এবং সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ প্রশাসনেও এসেছে বড় বদল। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে অজয়কুমার নন্দা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি হিসেবে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। এমনকি ১১টি জেলার জেলাশাসককেও বদলে ফেলেছে কমিশন। কমিশনের এই দফায় দফায় রদবদল নিয়ে সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। নবান্নের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই এভাবে পুলিশ ও প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।


_

_

_

_

_

_
_
