বিমানে বা কপ্টারে কোনও ভিআইপি থাকলে সেই ভিআইপি বা তাঁর সঙ্গীদের চাপের মুখে পাইলট কোনরকম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কিনা এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল দেশের বিমান পরিবহণের নিয়ন্ত্রক ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)। নিজেদের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল বিমানে বা কপ্টারে ভিআইপি থাকলে, কোনও ভাবেই তাঁর কিংবা তাঁর পারিষদের চাপের মুখে নিয়ম ভাঙা যাবে না। সিদ্ধান্ত নেবেন বিমান বা হেলিকপ্টারের পাইলট।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে কোনও অবস্থাতেই ভিআইপি বিমান বা হেলিকপ্টারের পাইলটদের অন্য কোথাও উড়ে যেতে বা কোথাও ল্যান্ড করতে বাধ্য করা যাবে না। প্রতিটি ফ্লাইটের আগে গন্তব্যের আকাশপথের আবহাওয়া কেমন, সেটা সম্পর্কে ধারণা থাকতেই হবে পাইলটদের। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে জানাতে হবে ভিআইপিকেও। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের অন্ডাল থেকে বেসরকারি বিমানে কলকাতায় আসার সময়ে মারাত্মক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টেক–অফ করার আগে কলকাতার পথে আবহাওয়া কেমন ছিল, সেটা জেনে নেওয়ার কথা ছিল পাইলটের। বিকেল চারটে নাগাদ কলকাতার আকাশে চলে আসার পরে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। এদিনের প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সামনে পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচন। তাই বহু ভিআইপি প্রচার, মিটিং–মিছিলের জন্য নিয়মিত ছোট বিমান বা হেলিকপ্টারে যাতায়াত করবেন। মাঝে মধ্যেই ভিআইপি বিমান বা হেলিকপ্টারের নিয়ম ভাঙার খবর আসছে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করতে দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট হেলিকপ্টার বা বিমান ব্যবহার করতে হবে। ককপিটে দু’জন ক্রু থাকতে হবে। বিমানে সচল ওয়েদার রেডার থাকা বাধ্যতামূলক। ভিআইপি বিমানের ক্ষেত্রে মুখ্য পাইলটের ন্যুনতম তিন হাজার ঘণ্টা এবং কো–পাইলটের ৫০০ ঘণ্টা ওড়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নিয়ম না মানলে পাইলট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিমানের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন হঠাৎ যদি আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায় তখন পাইলটের আগে থেকে জানার কোন উপায় থাকে না। কিন্তু সওয়া এক ঘণ্টা আকাশে চক্কর কাটার পরে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ফ্যালকন ২০০০ বিমান কলকাতায় নামে। কোনও অভিযোগ জমা না পড়ার ফলে এই নিয়ে তদন্তও হয়নি। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে মহারাষ্ট্রের বারামতি বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় সেখানকার উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশিকা বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই সময়ে খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বেও জোর করে পাইলটদের ফ্লাই করতে বাধ্য করা হয়েছে এমনটাই উঠে এসেছিল।

–

–

–

–

–

–

–
