বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে বারংবার সরব হয়েছে তৃণমূল। ইডি ও সিবিআইয়ের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল এনআইএ-র নাম। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক ময়দানে এঁটে উঠতে না পেরে বিজেপি এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের প্রার্থী ও কর্মীদের প্রচার থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে।

তৃণমূলের দাবি, যেসব কেন্দ্রে গত নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়েছিল কিন্তু পরবর্তী সময়ে মানুষ মোহভঙ্গ হয়ে ঘাসফুল শিবিরের দিকে ঝুঁকেছেন, সেই সব এলাকাগুলিকেই এখন টার্গেট করা হচ্ছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের তৃণমূল প্রার্থী মানব পড়ুয়াকে এনআইএ নোটিশ পাঠানোয় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জানা গিয়েছে, মানব পড়ুয়ার পাশাপাশি ওই এলাকার বেশ কিছু তৃণমূল কর্মীকেও তলব করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপি বুঝে গিয়েছে যে এই নির্বাচনে তাদের হার নিশ্চিত। তাই তারা এখন নখ-দাঁত বের করছে। একটি হারা ম্যাচ জেতার জন্য তারা সীমাহীন কারচুপি এবং বিকৃত কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে বহিরাগত ভোটার ঢোকানো— সবরকম চেষ্টাই তারা চালাচ্ছে।

তৃণমূল নেতৃত্বের প্রশ্ন, বহু পুরনো একটি মামলায় কেন ঠিক ভোটের মুখেই প্রার্থীকে তলব করা হল? কুণালবাবুর কথায়, এখন প্রচারের চূড়ান্ত সময়। এই সময়ে প্রার্থী এবং কর্মীরা মানুষের দুয়ারে গিয়ে প্রচার করবেন, নাকি এনআইএ অফিসে গিয়ে দিনভর বসে থাকবেন? এই ধরণের নোটিশ আসলে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।

আরও পড়ুন – লড়াই হোক উন্নয়নের নিরিখে! সুদামগঞ্জের সভা থেকে বিজেপিকে ‘ভোকাট্টা’ করার ডাক অভিষেকের

_

_

_

_
_
_
